
ঢাকায় অবস্থিত GILDAN অফিসের সামনে শতাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী মানবিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
তারা অভিযোগ করেন—প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে বৈষম্যমূলক আচরণ, অযৌক্তিক ছাঁটাই ও মানবিকতার অভাব, যার ফলে সাধারণ কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।এক শ্রমিক জানান, “হঠাৎ করে বিনা কারণে চাকরি চলে যায়, কোনো কারণও বলা হয় না। কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা আর ভয় আমাদের প্রতিদিন তাড়া করে।”
গর্ভাবস্থায় অসুস্থতা, কিন্তু ছুটি বা সহায়তা মেলেনি : সহকর্মী ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভবতী তানজিমা অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানায় ছুটির আবেদন করেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেনি।
নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় তিনি স্বাস্থ্য সহকারীর পরামর্শে বাইরে চিকিৎসা নিতে যান।তখন তিনি অর্থনৈতিক সহায়তা চান, কিন্তু কোম্পানি কোনো সহায়তা না দেওয়ায় সহকর্মীরা নিজেরা চাঁদা তুলে হাসপাতালে ভর্তি করান। কর্তৃপক্ষ সেই উদ্যোগেও বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে বিকেল ৩টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবার ও সহকর্মীদের ক্ষোভ, বিদেশি ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ: নিহতের দেবর পারভেজ বলেন, “কোম্পানি কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই আমার ভাবির মৃত্যু হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই—এই ঘটনার জবাব দিতে হবে।” অন্যদিকে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে গিল্ডান গ্রুপের বিদেশি কর্মকর্তারা স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করছেন।
তারা অভিযোগ করেন, “হঠাৎ করেই শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, কোনো কারণ বলা হয় না, মানবিকতা নেই। আমাদের জীবনের মূল্য যেন কিছুই নয়।”
অবহেলার অভিযোগে উত্তেজনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ : ঢাকার আশুলিয়ায় কানাডিয়ান মালিকানাধীন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিল্ডান গ্রুপের তিনটি কারখানায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে গর্ভবতী নারী শ্রমিক তানজিমা খাতুনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। GILDAN অফিসের সামনে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ । মঙ্গলবার দুপুরে গিল্ডান অফিসের সামনে শতাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী অমানবিকতা ও শোষণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তারা বলেন, “আমাদের সহকর্মী তানজিমার মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়—এটি ব্যবস্থাপনার অবহেলার ফল।”
এ ঘটনার পর শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয়।
শিল্প পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান,
“বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”