
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সাকহ্লান কারবারীপাড়ায় ধসে পড়া একটি বেসরকারি ম্রো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন ও নিরাপদ স্থানে পাহাড়ি ঐতিহ্যের আদলে বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাকহ্লান কারবারীপাড়ায় ২০২৩ সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সহায়তায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে ম্রো সম্প্রদায়ের অন্তত ৩৫ জন শিশু নিয়মিত পাঠগ্রহণ করত। তবে বাঁশ ও স্থানীয় উপকরণ দিয়ে নির্মিত ভবনটি সময়ের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির ফলে বিদ্যালয়টির ভবন সম্পূর্ণ ধসে যায়। এতে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। পরে বিদ্যালয়টির করুণ চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সায়েদ বিন আব্দুল্লাহ স্থানীয় শিক্ষক নুরুল ছাফা ভূঁইয়া বাবুর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টেও বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
এদিকে কলেজ শিক্ষক নুরুল ছাফা ভূঁইয়া বাবু, সাংবাদিক জয়দেব, সাংবাদিক সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ছাত্রপ্রতিনিধি মো. আরাফাত এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সদস্য শেখ সেলিমসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলমকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পরবর্তীতে ইউএনও মনজুর আলম জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করলে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকায় নতুন ভবনটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যালয়ের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গাও রাখা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণে টিআর কর্মসূচির আওতায় ৮ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অব্যবহৃত অর্থ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ১০ বান্ডেল ৩৪ মিলিমিটার রঙিন টেউটিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন বিদ্যালয়ে বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার, ব্ল্যাকবোর্ডসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্যও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, “বিদ্যালয়টির পুনর্নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি পাহাড়ি ডিজাইনের আদলে নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা রাখার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলে উন্নত, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে আবারও পাঠদান শুরু হবে। এর মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ম্রো শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত ও টেকসই হবে।