1. thpshopbd@gmail.com : admin :
জমা-খারিজের পরও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ: নবীনগরে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মা-ভাইবোনের মামলা, প্রশ্নবিদ্ধ সালিশের কার্যকারিতা - probahonewstv
July 28, 2026, 3:50 pm

জমা-খারিজের পরও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ: নবীনগরে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মা-ভাইবোনের মামলা, প্রশ্নবিদ্ধ সালিশের কার্যকারিতা

Reporter Name
  • Update Time : Monday, July 13, 2026
  • 68 Time View

জমা-খারিজের পরও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ: নবীনগরে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মা-ভাইবোনের মামলা, প্রশ্নবিদ্ধ সালিশের কার্যকারিতা
মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি দখল, বৃদ্ধ মাকে হয়রানি এবং ভাই-বোনদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান বদিউল আলমের (৬০) বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আইনগতভাবে জমা-খারিজ সম্পন্ন হওয়ার পরও তিনি প্রভাব খাটিয়ে পৈতৃক বসতভিটার বড় অংশ দখলে রেখেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগসহ একাধিক মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃত নাসির উদ্দিন সরকারের দুই সংসারে মোট ছয়জন উত্তরাধিকারী রয়েছেন। প্রথম সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে এবং দ্বিতীয় সংসারে স্ত্রী বয়জো খানম (৮০), দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। পরিবারের দাবি, উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সবার নামে পৃথকভাবে জমা-খারিজ সম্পন্ন হলেও বাস্তবে তারা নিজ নিজ অংশের ভোগদখল থেকে বঞ্চিত।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ১০ শতাংশ পৈতৃক বসতভিটার মধ্যে বদিউল আলম ৫ শতাংশেরও বেশি জায়গা এককভাবে দখল করে সেখানে ভবন নির্মাণ করেছেন। বাকি উত্তরাধিকারীরা নিজেদের অংশ বুঝে নিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।
ইয়াসমিন বেগম ও সুমন সরকার অভিযোগ করে বলেন, তারা জীবিকার কারণে দীর্ঘসময় এলাকার বাইরে থাকেন। সেই সুযোগে বড় ভাই সম্পত্তির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। এমনকি তার পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে অভিযুক্ত পক্ষ সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র জমিজমার বিরোধ নয়; বরং বৃদ্ধ মায়ের নিরাপত্তা এবং উত্তরাধিকারীদের আইনগত অধিকার রক্ষার প্রশ্নও জড়িত। তাই তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বদিউল আলমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ এখন সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

See also  বান্দরবানে গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে ৩ রাবার শ্রমিক অপহরণ। মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ। বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী এলাকায় গভীর রাতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে তিন রাবার শ্রমিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বাইশারী ইউনিয়নের আলীক্ষ্যং মৌজার মুসতইল্লা পাহাড় এলাকায় অবস্থিত আবীর রাবার বাগানের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, রাতের আঁধারে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল স্টাফ কোয়ার্টারের দরজায় এসে দরজা খুলতে বলে। ভেতরে থাকা শ্রমিকরা দরজা খুললে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করা হয়। ওই সময় কোয়ার্টারে নারী-পুরুষসহ মোট ১৩ জন অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তিনজন শ্রমিককে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অপহৃতরা হলেন— টেকনাফ উপজেলার শফিউল্লাহ কাটা এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. ছিদ্দিকের ছেলে নুরুল ইসলাম (২০), আনোয়ারের ছেলে এনামুল হক (২০) এবং খুইল্যা মিয়ার ছেলে হাসান (২০)। তারা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, দুটি দা এবং তিনটি টর্চলাইট নিয়ে যায় বলেও জানা গেছে। আবীর রাবার বাগানের মালিক ও বাইশারী বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল করিম বান্টু জানান, “শ্রমিক নুরুল ইসলাম আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানালে আমি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করি। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “তিন রাবার শ্রমিক অপহৃত হয়েছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযান চলছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তিনি জানান, এলাকায় আফসার গ্রুপ, সরোয়ার গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে কোনো একটি গ্রুপ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অপহৃতদের উদ্ধারের পর বিস্তারিত জানা যাবে। উল্লেখ্য, এর আগেও একই এলাকায় তামাক চাষিদের অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। পরে মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category