
বুলবুল হোসেন, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
‘মাদককে না বলি, খেলাধুলায় ফিরে আসি’—এই প্রত্যয়ে তারুণ্যকে মাদকমুক্ত রাখা ও যুবসমাজকে খেলাধুলামুখী করতে রংপুরের তারাগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট মেগা ফাইনাল। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নীলফামারীর কচুকাটা ফুটবল একাডেমিকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তারাগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিপুলসংখ্যক দর্শক গ্যালারি ও মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ উপভোগ করেন।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোনাব্বর হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসন-৩০৮-এর সংসদ সদস্য ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ফাইনালের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ হয়ে ওঠে উত্তেজনাপূর্ণ। প্রথমার্ধেই একটি গোল করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমি।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে নীলফামারীর কচুকাটা ফুটবল একাডেমি। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেও তারা গোলের দেখা পায়নি। অন্যদিকে কাউন্টার অ্যাটাকে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে সৈয়দপুর একাডেমি। শেষ বাঁশি বাজার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করে সৈয়দপুর। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে তারা।খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়দের হাতে টুর্নামেন্টের ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।রানার্সআপ নীলফামারী কচুকাটা ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়দেরও পুরস্কৃত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, “মাদক যুবসমাজ ও একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করতে পারলে তারা মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।
পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুধু একটি দলের জয়-পরাজয় নয়, বরং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগানোর বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে।