
টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে বন্যা ও পাহাড়ধসের আতঙ্ক
বিভিন্ন উপজেলায় পানিবন্দি হাজারো মানুষ, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত; ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বান্দরবান জেলার, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি ও সদর উপজেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, পাহাড়ধস এবং সড়কে পানি ওঠায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে আলীকদম উপজেলা। টানা বর্ষণে মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীতীরবর্তী অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে পানি উঠে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লামা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
লামা-আলীকদম-চকরিয়া (ফাঁসিয়াখালী) সড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
থানচি উপজেলায় টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার দিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নৌকায় পারাপারকারী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে বান্দরবান-থানচি সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড়ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সড়কটি দ্রুত সচল করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রুমা উপজেলায় নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে।
রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকার দুই-একটি স্থানে পাহাড়ধসের পাশাপাশি কয়েকটি সড়কে মাটি ধসে পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বান্দরবান সদর উপজেলায় নদীসংলগ্ন নিচু এলাকার বিভিন্ন সড়কে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া-ও চিম্বুক-শৈলপ্রপাত-লামা-গজালিয়া সড়কের কয়েকটি অংশেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সচল রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং পাহাড়ধসপ্রবণ ও নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।