1. thpshopbd@gmail.com : admin :
ভান্ডারিয়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা, জোর করে মুচলেখা দিতে বাধ্য। - probahonewstv
November 5, 2026, 4:00 pm

ভান্ডারিয়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা, জোর করে মুচলেখা দিতে বাধ্য।

মোঃ নুরে আলম, বরিশাল জেলা প্রতিনিধি।
  • Update Time : Monday, July 27, 2026
  • 100 Time View
ভান্ডারিয়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা, জোর করে মুচলেখা দিতে বাধ্য।

ভান্ডারিয়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা, জোর করে মুচলেখা দিতে বাধ্য।

মোঃ নুরে আলম, বরিশাল জেলা প্রতিনিধি।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় একটি মাদ্রাসায় এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ অনুদান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বরিশাল থেকে আসা দুই সাংবাদিক স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশ ডেকে এনে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়া হয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানোরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার উপজেলার দারুলহুদা ইসলামিয়া দাখিল বালিকা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ঘটে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জাতীয় দৈনিক বিজনেস ফাইল-এর বরিশাল ব্যুরো প্রধান মো. রাফি ও তাঁর সহকর্মী মাদ্রাসায় এতিম শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা, সরকারি ক্যাপিটেশন গ্রান্ট এবং দাতা সংস্থার অনুদান ব্যয়ের তথ্য সংগ্রহে যান। এ সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক তাদের প্রতি বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
মো. রাফি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে জোরপূর্বক লিখিত ও মৌখিক মুচলেকা নেন। পরে ফেসবুকে আমাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে অপপ্রচার চালানো হয়।”
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহাবুব ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে ফোনে বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে সাংবাদিকরা আসার কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসেন। দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে স্থানীয় সাংবাদিকরাই পুলিশে খবর দেন। তিনি বলেন, “আমরা দুই পক্ষকে আলোচনার জন্য ভেতরে আসতে বলেছিলাম। কোনো পক্ষই টাকা-পয়সা দাবি করেনি।”
অন্যদিকে, এশিয়ান টেলিভিশনের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি মো. নাইম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বরিশাল থেকে অনেকেই বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেন—এমন ধারণা থেকেই সতর্কতার জন্য মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। কাউকে লাঞ্ছিত করা হয়নি। একজনের প্রেস কার্ডের মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল, সেটি নিয়েই আলোচনা হয়েছে।”
ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বরিশাল থেকে আসা সাংবাদিকরা কোনো অর্থ দাবি করেননি। তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করে সঠিক পাওয়ার পর পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।
এ ঘটনায় কোনো আর্থিক অনিয়ম বা চাঁদা দাবির প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের আচরণ এবং পুলিশের উপস্থিতিতে মুচলেকা নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরিশাল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মফস্বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

See also  মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়: এটিএম আজহারুল ইসলাম

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category