
সাদুল্লাপুরে হোটেলে লাখ টাকা চুরির ৭ দিন পর আবারও চুরির চেষ্টায় ধরা সেই শিশু।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মো. বেলাল মিয়া।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের একটি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে লাখ টাকা চুরির আলোচিত ঘটনার মাত্র সাত দিনের মাথায় আবারও চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে ১১ বছরের সেই শিশুটি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। বয়স কম হওয়ায় তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধন ও পুনর্বাসনের জন্য শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।
আটক ওই শিশুর নাম লোকমান মিয়া (১১)। সে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের সরকারি ডিগ্রি কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি হোটেল চুরির সিসিটিভি ফুটেজের মূল অভিযুক্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মাওলানা ভাসানী সেতু এলাকায় একটি ফুচকার দোকানে টাকা চুরির সময় স্থানীয়রা লোকমানকে হাতেনাতে আটক করে। সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁসের পর থেকেই সে আত্মগোপনে ছিল। সুন্দরগঞ্জে আটকের পর তার দাদি ও স্বজনরা তাকে সাদুল্লাপুরে নিয়ে আসেন। পরে রাতে সাদুল্লাপুর বণিক সমিতির সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম স্বপনের মাধ্যমে তাকে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর বণিক সমিতির সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম স্বপন বলেন, “মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে চুরির ঘটনার পরপরই যদি শিশুটিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হতো, তবে হয়তো সে পুনরায় এই অপরাধ করত না। এখন তার আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসা ও সঠিক পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে এত কম বয়সে এমন পরিকল্পিত চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, এত অল্প বয়সে যেভাবে সে চুরির পরিকল্পনা করেছে, তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ বা পেশাদার চোর চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সাদুল্লাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবু তালেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লোকমান অত্যন্ত চতুর ও পরিকল্পিত উপায়ে চুরি করত। পূর্বের হোটেল চুরির পুরো ঘটনাটিই সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট ধরা পড়েছে। যেহেতু তার বয়স মাত্র ১১ বছর, তাই আইন অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশোধন, পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের উদ্দেশ্যে দ্রুত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।