
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন, টেকনাফ
টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তা ওসি আবু জায়েদ মো. নূর সম্প্রতি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
অপপ্রচারের অভিযোগ ও প্রতিবাদ : গত ১৮ অক্টোবর (২০২৫) অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘টেলিগ্রাম নিউজ’–এ “৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইয়াবা কারবারিকে এসি গাড়ির ব্যবস্থা করলেন টেকনাফ ওসি” শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এই সংবাদটি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কুচক্রী মহলের অপচেষ্টা’ বলে দাবি করেছেন ওসি আবু জায়েদ নূর। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের সংবাদ সম্পূর্ণ মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাদকচক্রের পক্ষের একটি গোষ্ঠী পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।”
ঘটনার পটভূমি ও ব্যাখ্যা : ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে ওসি আবু জায়েদ বলেন, “ওইদিন আদালতে মোট আটজন আসামিকে প্রেরণ করা হয়। সাতজন পুরুষ ও একজন নারী আসামি ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে নারী আসামিকে আলাদা গাড়িতে পাঠানো হয়, কারণ লেগুনায় আসন সংখ্যা সীমিত ছিল। কিন্তু এই স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের সংবাদ প্রচার মূলত পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বাধা সৃষ্টি ও মনোবল ভাঙার কৌশল।
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান : ওসি আবু জায়েদ নূর বলেন, “সংবেদনশীল কোনো বিষয় প্রচারের আগে সাংবাদিকদের উচিত তথ্য যাচাই করে নেওয়া। যাতে কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া : স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওসি আবু জায়েদ নূর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের গতি বেড়েছে। এর ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে বা আত্মগোপনে যাচ্ছে। অনেকে বলেন, “তিনি যোগদানের পর থেকে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। রাতের অন্ধকারে মাদক লেনদেন এখন অনেক কম।”
টেকনাফের বাস্তব চিত্র : দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ অঞ্চলটি দেশের অন্যতম মাদক প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির ফলে মাদকচক্রের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়েছে। এ কারণে ক্ষুব্ধ মাদককারবারীরা এখন পুলিশ কর্মকর্তাদের টার্গেট করছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।