মোঃ রেজাউল হক রহমত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত মো. শিপনের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০–১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ১ নভেম্বর (শুক্রবার) রাতের ওই ঘটনায় দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হন।
ঘটনার বিবরণ : মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি বাজারের বিশু সাহার হোটেলে নাস্তা খাওয়ার সময় হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু হয়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মো. শিপন। গুরুতর আহত হন নুর আলম ও ইয়াসিন নামে আরও দুজন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াসিনও মৃত্যুবরণ করেন।
মামলার বিবরণ : নিহত শিপনের মা আনোয়ারা বেগমের দায়ের করা মামলায় বড়িকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১২ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন— এমরান, আবুল কালাম, আরাফাত, সোহাগ মিয়া, রুবেল মিয়া, শাহাদাৎ হোসেন সোহাগ, অলি মিয়া, তাজুল ইসলাম, আব্বাস মিয়া, বশির মিয়া, সানাউল্লাহ, শরীফ মিয়া ও হাসিব মিয়া। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ : বুধবার সকালে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় জনতা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। নুরজাহানপুর গ্রাম থেকে থোল্লাকান্দি বাজার পর্যন্ত মিছিল শেষে মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের স্লোগান ছিল— “হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই, শিপন-ইয়াসিনের রক্তের বিচার চাই!”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা : পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এলাকায় উত্তেজনা : জোড়া খুনের ঘটনায় থোল্লাকান্দি ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলেন,“আমরা দ্রুত বিচার চাই, যেন আর কোনো মা তার ছেলেকে হারাতে না হয়।”