
মোঃ বেলাল মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে সুপরিচিত নাম—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই), হেফাজতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। সবাই ইসলামি দল হিসেবে পরিচিতি পেলেও এদের আদর্শিক ও কৌশলগত ভিন্নতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, গাইবান্ধা জেলার দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান দেশের ইসলামি দলগুলোর এই বহুমাত্রিকতা এবং আহলে হাদিস, হানাফি, সুন্নি, শিয়া ও কাদিয়ানীসহ বিভিন্ন ফেরকার আমলের ভিন্নতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন।
কামরুজ্জামানের উত্থাপিত প্রশ্নগুলো হলো:
যদি জামায়াতে ইসলামী ইসলামি দল হয়, তবে চরমোনাই, হেফাজত, খেলাফত মজলিস বা তরিকত ফেডারেশন কেন আলাদা? তারা কি ইসলামি দল নয়?
সবাই মুসলমান হলেও আহলে হাদিস, হানাফি, মালেকি, শিয়া, সুন্নি, কাদিয়ানী—কেন এত ফেরকা?
সবার আমল বা ইবাদতের পদ্ধতি কেন আলাদা?
কেন এত দল ও ফেরকা?
ইসলামি চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অনৈক্যের প্রধান কারণ তাদের আদর্শিক বিরোধ ।
জামায়াতে ইসলামী: তারা মূলত আধুনিক ইসলামী চিন্তাধারার আলোকে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
চরমোনাই (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ): তারা কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক দেওবন্দি ঘরানার আদর্শের পাশাপাশি পীর-মুরিদি বা সুফিবাদের ধারক।
হেফাজতে ইসলাম: এটি রাজনৈতিক দল না হলেও কওমি আলেমদের একটি শক্তিশালী চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী, যারা সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় আকিদা রক্ষণাবেক্ষণ করে।
খেলাফত মজলিস ও জমিয়ত: এরা দেওবন্দি ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
তরিকত ফেডারেশন: তারা সুন্নি ঘরানার হলেও পীর-মাশায়েখ ভিত্তিক ধারার রাজনীতি করে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে এক দল অন্য দলের ব্যাখ্যাকে বিতর্কিত মনে করে।
আমল আলাদা হওয়ার কারণ
মুসলমানদের সবাই এক আল্লাহ ও রাসূল (সা.) কে বিশ্বাস করলেও আকিদা (বিশ্বাস) এবং ফিকহ (আইন) বা মাযহাবের পার্থক্যের কারণে আমল আলাদা হয়।
হানাফি (বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানে অধিকাংশ): তারা ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর ফিকহ অনুসরণ করে। নামাজের হাত বাঁধা, আমীন জোরে না বলা ইত্যাদি এদের বৈশিষ্ট্য।
আহলে হাদিস/সালাফি: তারা সরাসরি কোরআন ও হাদিসের অনুসরণ দাবি করে, কোনো নির্দিষ্ট ইমামের ফিকহ মানে না।
সুন্নি-শিয়া: শিয়ারা মূলত হযরত আলী (রা.) ও তার বংশধরদের ইমামতের ওপর গুরুত্ব দেয়, যা সুন্নিদের থেকে ভিন্ন।
কাদিয়ানী (আহমদীয়া): মূলধারার মুসলিম স্কলারদের মতে, তাদের বিশ্বাস (মির্জা গোলাম আহমদকে নবী মানা) ইসলামি আকিদা বিরোধী, তাই তাদের মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হয় না
দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান মনে করেন, “ইসলামের নামে এত দল বা ফেরকা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। সবাই যদি মুসলমান হয়, তবে কেন নিজেদের মধ্যে বিভেদ?”
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দল নির্বাচনী জোট বা ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে আসার চেষ্টা করছে।
Probaho News TV — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।