
মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
নবীনগরে এখন আর অপরাধ গোপনে নয়—প্রকাশ্য, পরিকল্পিত এবং দুঃসাহসিক কায়দায় সংঘটিত হচ্ছে। মুখোশধারী ডাকাতদল মেইন রোডের পাশের একটি গ্যারেজে ঢুকে অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে ১৩টি অটোরিকশার ব্যাটারি লুট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—নবীনগরে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা কি আদৌ কার্যকর রয়েছে? শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে নবীনগর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলাচং–নবীপুর সড়কে সংঘটিত এই ঘটনা শুধু একটি ডাকাতির ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি প্রকাশ্য চিত্র বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নবীনগর–কোম্পানীগঞ্জ সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ মেইন রোডের পাশেই এমন দুঃসাহসিক ডাকাতি প্রমাণ করে, অপরাধীরা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আর ভয় পাচ্ছে না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা গ্যারেজের ভেতরে থাকা একজনকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে অস্ত্র তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ডাকাতি চালায়। পরে লুট করা ব্যাটারিগুলো একটি পিকআপ ভ্যানে তুলে নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ডাকাতদল নিরাপদে পালিয়ে যায়। গ্যারেজ মালিক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মকুল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেইন রোডের পাশে যদি এভাবে ডাকাতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কোথায়? আমরা কি তবে জিম্মি হয়ে বাঁচব?”
এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে নিয়মিত টহল নেই, কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারির অভাব রয়েছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে অপরাধচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ঘটনাটি তদন্তাধীন।” তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—তদন্তের নামে আর কতদিন এভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে? অতীতের এমন ঘটনাগুলোতে কি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে? নবীনগরের মানুষ এখন আর আশ্বাস নয়, কার্যকর ফলাফল দেখতে চায়। দ্রুত ডাকাতচক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে আইনশৃঙ্খলার এই অবনতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল। নবীনগর কি তবে অপরাধীদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখন প্রশাসনের কাছেই প্রত্যাশিত।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।