
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করা হলেও অবৈধ বালু মহালের মূল হোতারা আবারও রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২টি ড্রেজার ও ২টি বাল্কহেড জব্দ করা হয় এবং ড্রেজার চালক ও শ্রমিকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদের বিনিয়োগ ও নির্দেশনায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে, সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অভিযানের আওতায় আসেননি। গ্রেপ্তার সবাই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ—ড্রেজার চালক, বাল্কহেড চালক ও দিনমজুর।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সর্বনিম্ন এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকরা পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন হয়, সেখানে সিদ্ধান্তদাতা কি এসব শ্রমিক, নাকি তারা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কেবল বলি? জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, নবীনগর উপজেলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে ভারী ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চরলাপাংসহ আশপাশের একাধিক গ্রাম ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার ও এম কায়সার। সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশ ও নৌপুলিশ অভিযানে সহায়তা করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংবাদ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকে। নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা থাকলে অবৈধ ড্রেজার বসানোর আগেই তা বন্ধ করা সম্ভব হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, বছরের পর বছর একই চিত্র দেখা যাচ্ছে—ড্রেজার জব্দ হয়, শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়, কিন্তু মালিকরা থেকে যান অদৃশ্য। এতে সিন্ডিকেট ভাঙে না, বরং আরও শক্তিশালী হয়। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। বর্তমানে নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যস্ততা রয়েছে। নির্বাচন শেষে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—নদী কি নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? ততদিনে মেঘনার কতটা অংশ বিলীন হবে, কত গ্রাম হারাবে তাদের অস্তিত্ব?
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।