
মোহাম্মদ হানিফ সহব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ।
বালুর নিচে চাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার, স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ; সন্তানের কান্নাজড়িত বর্ণনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ফেনী সদর উপজেলা-এর শর্শদী ইউনিয়নের চোছনা গ্রামে নির্মাণাধীন একটি বাড়ি থেকে রিনা বেগম নামে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রিনা বেগমের মরদেহ নির্মাণাধীন ভবনের বালুর নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে রাজমিস্ত্রির কর্মচারী সাইফুলের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলী বাজার পশ্চিম জোর-কাছাড় এলাকার সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী রিনা বেগম কিছুদিন ধরে নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ তদারকি করছিলেন। ঘটনার দিন তিনি নির্মাণাধীন ভবনে গেলে সেখানে কর্মরত রাজমিস্ত্রির সহকারী সাইফুলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ ভবনের বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, রিনা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ভবনের বালুর স্তূপে সন্দেহ হলে স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে রিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের সন্তান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমার মাকে মেরে মাটি চাপা দিয়ে গেছে। যাওয়ার আগে মায়ের নাক ও কানের স্বর্ণ অলংকারও নিয়ে গেছে। আমরা আমার মায়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।” এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তারা হতবাক। একজন প্রবাসীর পরিবারের সদস্য নিরাপদ না থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয় বলে মন্তব্য করেন তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্ত সাইফুল পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে প্রবাসীর স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।