
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ, বান্দরবান
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মায়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ভাঙ্গা পাড়ায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের অন্তর্গত আলীকদম জোনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির উদ্বোধন করেন আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নবনির্মিত বিদ্যালয়টি আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং মায়ানমার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত পাহাড়ভাঙ্গা পাড়া দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে ফাতরাপাড়া, মাসখুম পাড়া ও তরণী পাড়ার শিশুদের জন্য বিদ্যালয়মুখী হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আলীকদম জোন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
উদ্বোধন শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, বেঞ্চ, পাঠ্যবই ও প্রয়োজনীয় স্টেশনারি সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে শিশুদের শিক্ষাগ্রহণে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় উদ্বোধনের পাশাপাশি আলীকদম জোনের ব্যবস্থাপনায় দুই দিনব্যাপী একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পে ৯৫ জন পুরুষ, ১৭৫ জন নারী ও ৪৫ জন শিশুসহ মোট ৩১৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এছাড়া শীতার্ত মানুষের মাঝে ১১৩টি পরিবারের মধ্যে কম্বল বিতরণ এবং অসহায়দের নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্মিত এই বিদ্যালয়টি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম, মেজর মোঃ পাভেল মাহমুদ রাসেল, বিএসপি, আলীকদম জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী তাওহীদ এবং লামা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মাসুম সরদার। এছাড়াও কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় কার্বারি, জনপ্রতিনিধি ও প্রায় পাঁচ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। তাদের মতে, এ উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।