
মোহাম্মদ হানিফ, সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগীয়
অবৈধ মাটি কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, স্বস্তিতে এলাকাবাসী
ফেনীর কাশিমপুর মৌজায় ফসলি জমি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও কঠোর অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ ধরনের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
গত ৩ এপ্রিল ২০২৬, রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে কাশিমপুর মৌজাস্থ হাইওয়ে ব্রিকফিল্ডের পূর্ব পাশে অবস্থিত প্রায় ৫২ শতাংশ ফসলি জমিতে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি ট্রাক ও ১টি এক্সকাভেটর জব্দ করা হয়। পাশাপাশি অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোঃ হেলাল উদ্দিন তার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর নিজের অংশের অধিকাংশ সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য সহ-উত্তরাধিকারীদের অংশভুক্ত ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জমির প্রকৃত মালিকরা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এলাকাবাসী আরও জানান, প্রায় দুই বছর আগেও একই জমি থেকে মাটি কাটার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে তাকে নিবৃত করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি আবারও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, যা এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে বসতভিটার গাছপালা কেটে নিয়ে গেছে এবং পূর্বে পৈত্রিক যৌথ মালিকানাধীন স্থাপনা ভেঙে বিক্রি করেছে। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ফলে এলাকায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পুলিশি হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকলে অবৈধ মাটি কাটাসহ পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। পাশাপাশি এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলেও তারা আশা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, কৃষিজমি রক্ষা শুধু পরিবেশ নয়, খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে তারা সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় হিসেবে বিবেচনা করছেন।