
আবু বক্কর ছিদ্দিক, স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
ফেনী: শিক্ষক, মানবাধিকার সংগঠক ও সাংবাদিক—এই তিন পরিচয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-এর জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে জানিয়েছেন।
নিজের পরিচয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রথমে একজন নাগরিক, তারপর শিক্ষক; সাংবাদিকতা ও রাজনীতি আমার আদর্শিক চর্চার অংশ।”
রাজনৈতিক অবস্থান: অভিজ্ঞতা ও বিতর্ক
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। তবে তিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদে নেই বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, “আমি দলীয় সুবিধাভোগী নই। আদর্শে বিশ্বাস করি, কিন্তু অন্ধ সমর্থক নই।”
একজন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিশেষ করে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে। জবাবে হানিফের বক্তব্য, “দলীয় অবস্থান কখনো রিপোর্টে প্রভাব ফেলেনি।”
শিক্ষকতা: মূল্যবোধের পাঠ
স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সহকর্মীদের একাংশের মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক সচেতনতা ও ইতিহাসবোধ গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্ব দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকর্মী বলেন, মাঝে মাঝে তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে।
হানিফের জবাব, “শিক্ষার্থীদের আমি দল শেখাই না; শেখাই মূল্যবোধ।”
সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধান
স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, ভূমি বিরোধ ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।
ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ:
২০২১ সালে একটি স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
২০২২ সালে ভূমি বিরোধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে অবস্থান নেন।
২০২৩ সালে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নাগরিক সভায় বক্তব্য দেন।
এসব ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা বাড়ে। এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, “সমালোচনা করার আগে পুরো তথ্য যাচাই করা উচিত।” হানিফের বক্তব্য, “তথ্য যাচাই ছাড়া আমি কিছু প্রকাশ করি না। প্রয়োজনে সংশোধনও করি।”
মানবাধিকার সম্পৃক্ততা
তিনি একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভুক্তভোগীদের পরামর্শ প্রদানই তাদের মূল কাজ।
সমালোচকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় থাকা অবস্থায় মানবাধিকার কাজ করলে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। জবাবে হানিফ বলেন, “মানবাধিকার দল দেখে না। অন্যায় যে করবে, তার বিরুদ্ধেই কথা বলব।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ। তবে অভিযোগ থাকলে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করাই উত্তম।” হানিফ জানান, তিনি একাধিকবার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মতামত দিয়েছেন।
বিশ্লেষণ
রাজনীতি, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার—চারটি ক্ষেত্রের সমন্বয় যেমন তাঁকে প্রভাবশালী করেছে, তেমনি নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে। দীর্ঘ আদর্শিক অবস্থান তাঁকে সমর্থন দিয়েছে, আবার বিতর্কের কারণও হয়েছে।
উপসংহার
বিতর্কের মাঝেও নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন মোহাম্মদ হানিফ। তাঁর ভাষায়, “আমি শিক্ষকতা করি জীবিকার জন্য, সাংবাদিকতা করি দায়িত্ববোধ থেকে, মানবাধিকার কাজ করি মানবিক কারণে। আর রাজনীতি—সেটি আমার বিশ্বাস।” ফেনীর এই বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধারাই বিদ্যমান। সময়ই বলে দেবে তাঁর ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়িত হবে।
Probaho News TV — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।