1. thpshopbd@gmail.com : admin :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: পার্বত্যভূমিতে কি আদৌ পরিবর্তন আসবে? - probahonewstv
November 1, 2026, 2:15 am

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: পার্বত্যভূমিতে কি আদৌ পরিবর্তন আসবে?

মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ,বান্দরবান
  • Update Time : Tuesday, January 27, 2026
  • 159 Time View
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা ও অস্তিত্ব সংকট নিয়ে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: পার্বত্যভূমিতে কি আদৌ পরিবর্তন আসবে?

মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। দল ও প্রার্থীরা ভোটের আশায় ঘরে ঘরে ছুটছেন, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সহজ-সরল মানুষ যে বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে, তার দায় কার? সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক বলেন, নির্বাচন আসে, নির্বাচন যায়—কিন্তু পাহাড়ের ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সংকট কি আদৌ লাঘব হচ্ছে? বাস্তবতা হলো, হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত-বিএনপি সহ যেসব দল ও প্রার্থী আজ ভোটের মাঠে সক্রিয়, তারা কি ১৯০০ সালের ব্রিটিশ প্রণীত রেগুলেশন আইন বাতিল করে পার্বত্যবাসীকে প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব দিতে পারবেন? তার মতে, বাস্তবতা হলো—তারা পারবেন না।

সারা দেশে ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। তারা জাতীয় নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ প্রায় তিন দশক ধরে যে কাঠামোগত বঞ্চনার শিকার, তার অবসান ঘটাতে হলে আগে দেশের সাধারণ জনগণকে জানতে হবে—পাহাড়ের মানুষের অস্তিত্ব সংকটের মূল কারণ কী। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলা অন্তর্ভুক্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা কার্যত এই কাঠামোর বাইরে থেকে যায়। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দারা নিজ দেশেই পরবাসীর মতো জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। সমতলের নাগরিকরা কেন পার্বত্য এলাকায় অবাধে জমি ক্রয় ও সরকারি চাকরির সুযোগ পান—তার পেছনেও রয়েছে দ্বৈত শাসননীতির বাস্তবতা।

গত ৫৫ বছরে দেশে ১০টি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কখনো ‘শান্তিচুক্তি’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি এসেছে, কখনো তার সুফল-কুফল নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ে জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর আন্তরিক উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। একদিকে কিছু জাতিগোষ্ঠীকে চুক্তির সুফল দেখিয়ে আশ্বস্ত করা, অন্যদিকে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে কুফলের বয়ান শুনিয়ে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে রাখা—এই বিভাজনের রাজনীতি মূলত ভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্বার্থে আমাদেরই নাগরিকদের ব্যবহারের শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। পার্বত্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আঘাত আমাদের, ব্যথাও আমাদের। উন্নয়ন ও চেতনার মোড়কে জাতিসত্তা মুছে ফেলার যে রাজনীতি চলছে, তাদের চিনে রাখুন। যারা ভোট চাইতে আসবে, তাদের প্রশ্ন করুন—পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা কী? তিনি সতর্ক করে বলেন, আবেগঘন মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ভেসে গেলে সামনে অপেক্ষা করছে আরও পাঁচ বছরের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সংঘাত। তাই এই চক্র ভাঙতে হলে প্রার্থী ও দলের ইশতিহার গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। জিজ্ঞেস করতে হবে—পার্বত্যবাসীর দুঃখ লাঘবের ইশতিহার কোথায়?

See also  আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনী সহায়তা সংস্থার ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ,নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে মানবাধিকার কর্মীদের অঙ্গীকার

Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category