
টাঙ্গাইল মির্জাপুর মসদই গ্রামে গভীর এক রাতে দুইবার ডাকাতি চেষ্টা, এলাকাবাসীর ধাওয়ায় পালালো ডাকাত দল
রিহান সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল।
রবিবার, (৩১ মে ২০২৬) উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের মসদই গ্রামে একদল ডাকাতের তাণ্ডব ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে গ্রামবাসীর তীব্র প্রতিরোধ ও সাহসিকতার মুখে কোনো কিছু লুট না করেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে ডাকাত দলের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত আনুমানিক ১১:০০ টা থেকে ১১:৩০ এর দিকে ডাকাত দল প্রথম হানা দেয় মসদই গ্রামের পংখু কাজীর বাড়িতে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও এই একই বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছিল। পংখু কাজীর বাড়িতে ব্যর্থ হয়ে ডাকাত দলটি অবস্থান নেয় মিজান আনার বাড়ির সামনের পাকা রাস্তার কালভার্টটিতে। এই সময় ইউপি মেম্বার ঘটনাটি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ক্যাপ্টেন বাবুর ওখানে ডাকাতদের অবস্থানের কথা জানান। খবর পাওয়া মাত্রই এক মুহূর্ত দেরি না করে সাহসী এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ডাকাতদের প্রতিরোধে ছুটে যান।
গ্রামবাসী যখন তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছান, তার মাত্র ১০-১৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে ডাকাতরা সেখান থেকে পিছু হটতে শুরু করে। তিন রাস্তার মোড়ের ঠিক সোজা একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ব্যবহার করে অন্ধকার দিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। গ্রামবাসী তাদের পিছু ধাওয়া করলেও, পর্যাপ্ত টর্চ লাইট না থাকায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তারা সটকে পড়ে।
প্রথম দফা ধাওয়া খাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হলেও, গভীর রাতে আবারও আতঙ্ক ছড়ায়। রাত ৩:২৫ থেকে ৩:৩০ মিনিটের দিকে যখন গ্রামবাসী ভাবছিলেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই মিজান আনার ঘরের দরজায় বেশ জোরে কয়েকবার ধাক্কা দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। মিজান আনা তাৎক্ষণিক বাকিদের ফোন করে জানালে গ্রামবাসী আবারও দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে ততক্ষণে ডাকাত বা দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
একই রাতে বারবার এমন হানা দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং উদ্বেগের। তবে মসদই গ্রামের যুবসমাজ ও এলাকাবাসীর ঐক্য এবং সাহসিকতার কারণে গতকাল রাতে একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে এই অঞ্চলে নৈশকালীন পুলিশি টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন।