
নির্মাণাধীন বাড়িতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা
মোহাম্মদ হানিফ সহব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ।
ফেনীর শর্শদীতে রিনা বেগম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নির্মাণ শ্রমিক সাইফুল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার
ফেনীর শর্শদী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন বাড়িতে প্রবাসীর স্ত্রী রিনা বেগমকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন নির্মাণ শ্রমিক সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর মরদেহ বালুর নিচে চাপা দিয়ে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে রিনা বেগম নির্মাণাধীন বাড়ির কাজের অগ্রগতি দেখতে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে বালুর স্তূপের নিচে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক সাইফুলের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে অভিযুক্ত সাইফুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রিনা বেগম ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।