
আবু বক্কর ছিদ্দিক, স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
ফেনী-০৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দাগনভূঞা উপজেলায় সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কোরাইশ মুন্সী মাদ্রাসা কেন্দ্র এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্র এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র কর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের পাশে প্রার্থী
শুক্রবার সকালে আহতদের খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থলে যান ফেনী-০৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক। তিনি আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। আহতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজী সাইফুল ইসলাম রায়হান, মো. ইমাম হোসেন মানিক, কাজী আমিরুল ইসলাম জন্টু ও সাখাওয়াত হোসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহীম, দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের আমীর গাজী সালেহ উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি কামাল হোসেন, রাজাপুর ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আব্দুজ জাহেরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও ফেনী জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইমাম হোসেন আরমান এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আশঙ্কা
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন,
“ফেনী-০৩ আসনেও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। আমাদের অনেক এজেন্টের ওপর হামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।” তিনি আরও বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার আহ্বান
বক্তব্যে তিনি ভোটার ও সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এলাকায় উদ্বেগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই কেন্দ্র এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।