1. thpshopbd@gmail.com : admin :
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যৌতুকের দাবিতে মুক্তা পারভীন নামের এক গৃহবধূকে চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে নির্মমভাবে হ ত্যা র অভিযোগ উঠেছে - probahonewstv
June 13, 2026, 9:59 am

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যৌতুকের দাবিতে মুক্তা পারভীন নামের এক গৃহবধূকে চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে নির্মমভাবে হ ত্যা র অভিযোগ উঠেছে

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, June 11, 2026
  • 15 Time View

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যৌতুকের দাবিতে মুক্তা পারভীন নামের এক গৃহবধূকে চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে

রিহান সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল।

একটি সুখী সংসারের আশায় প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন মুক্তা পারভীন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অবশেষে সেই নির্যাতনের শেষ পরিণতি হলো এক নির্মম মৃত্যু।

কালিহাতীর সল্লা এলাকায় মহাসড়কের পাশে চলন্ত ট্রেনের সামনে ধাক্কা দিয়ে মুক্তা পারভীনকে হত্যার অভিযোগে ঘাতক স্বামী সুজন মিয়াসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী সল্লা মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বৃষ্টিতে ভিজেই বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা।

বড় ভাই শাহাদৎ হোসেন বলেন, ২০১৪ সালে প্রেম করে ওদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ওরা অন্যায়ভাবে যৌতুক দাবি করে আসছিল। সুজনের বাবা-মা হুমকি দিয়েছিল, ১০ লাখ টাকা না দিলে আমার বোনকে মেরে ফেলবে। সুজনের একাধিক মেয়ের সাথে পরকীয়া সম্পর্কও আছে। আমার বোনকে ওরা
পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার এবং সুজনের ফাঁসি চাই।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ১২ বছরের সংসারে মুক্তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে আছিয়ার বয়স ৬ বছর এবং ছোট মেয়ে হুমায়রার বয়স মাত্র ২ বছর। যৌতুকের দাবিতে এর আগেও কয়েকবার নির্যাতন করা হলে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে মুক্তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত সোমবার সকালে কৌশলে তাকে রেললাইনের পাশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দূর থেকে ট্রেন আসতে দেখে চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সুজনসহ তার পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন,
যৌতুকের জন্য সুজন এবং তার পরিবার মুক্তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করেছে। কয়েকবার বিচার-সালিশও হয়েছে। যৌতুক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে ট্রেনের নিচে ফেলে মেরেই ফেলল। আমরা সুজনসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার ফাঁসি চাই।

See also  দুই মাসেও গ্রেফতার নেই, সুনীল বাঁশফোড় হ?ত্যা মা?ম/লা/য় অগ্রগতি শূন্য—প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন।

এদিকে রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই এটি হত্যাকাণ্ড কি না, সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এএসআই এনামুল মোল্লা (ইনচার্জ, টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি) তিনি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (সহকারী পুলিশ সুপার, কালিহাতী সার্কেল) জানান , আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই অবুঝ কন্যাসন্তানকে মাতৃহারা করে মুক্তাকে যেভাবে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার দেখতে চায় পুরো এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category