
মোহাম্মদ হানিফ,সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিষ্ণুপুর উচ্চবিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে অনুপ্রেরণা বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫। সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক মনোরম ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। শিক্ষাঙ্গনে উৎসবের আমেজ
এ বছর বৃত্তি পরীক্ষায় সোনাগাজীর বিভিন্ন এলাকার ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৭০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ২য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত চারটি স্তরে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সঙ্গে কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত হয়। বিদ্যালয়ের মাঠ, বারান্দা ও কক্ষজুড়ে ছিল শান্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ পরীক্ষার পরিবেশ। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তদারকিতে ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ বৃত্তি পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্র সচিব ও হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসেন মোঃ আলমগীর। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক ইবরাহীম খান এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ সেলিম। তাদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় প্রশ্নপত্র বিতরণ, আসনবিন্যাস থেকে তদারকি—সবকিছুই সম্পন্ন হয় নিখুঁতভাবে। পরীক্ষার্থীরা বাধাহীনভাবে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়। শিল্পপতি নাজমুল করিম দুলালের সহযোগিতা অনুপ্রেরণা বৃত্তি পরীক্ষার সার্বিক সহযোগিতা করেন সোনাগাজীর বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দানবীর নাজমুল করিম দুলাল। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিন ধরে তার অবদান স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করছে বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন। অভিভাবকদের সন্তোষ
পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অভিভাবক শহিদুল ইসলাম বলেন,
“এ ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা আমাদের সন্তানদের মেধা ও প্রতিযোগিতার মনোভাব বাড়ায়। আজকের পরীক্ষা খুব শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে—এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।” তিনি আরও জানান, এমন পরীক্ষা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ সাজেদুল ইসলাম জানায়— “পরীক্ষার পরিবেশ খুব সুন্দর ছিল। প্রশ্নও ভালো ছিল। আমি ভালো পরীক্ষা দিয়েছি, বৃত্তি পাওয়ার আশা করছি।” শিক্ষার্থীরা মনে করে, এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা তাদের পড়াশোনায় নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। বৃত্তি পরীক্ষার গুরুত্ব শিক্ষাবিদদের মতে, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলে, দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ দেয় এবং দুর্বল শিক্ষার্থীরাও ভালোদের দেখে উদ্বুদ্ধ হয়। ফলে স্থানীয় শিক্ষার মান সামগ্রিকভাবে উন্নত হয়। পুরো পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ফলাফল নির্ধারিত সময়েই প্রকাশ করা হবে। আগামী বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে পরীক্ষা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।