
কুরুকপাতার দুর্গম পাহাড়ে (৩ মাসব্যাপী) স্বাস্থ্যসেবার আলোর ছোঁয়া — হাম-রুবেলা টিকাদান ও মেডিকেল ক্যাম্পে নিরাপত্তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়,২৬ এপ্রিল ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ তারিখে -কুরুকপাতা, ইউনিয়নে
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।
কুরুকপাতা বাজারস্থ কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি এবং অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। প্রায় ২০০ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গম এই অঞ্চলেও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পরিচালিত হচ্ছে একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্থানীয় নারী, পুরুষ ও প্রবীণদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন, যা এলাকায় স্বস্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোঃ হাসানের নেতৃত্বে ২ জন চিকিৎসক, ১ জন মেডিকেল সহকারী এবং ৩ জন নার্সের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যাতায়াত সহায়তা এবং সার্বিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বিশেষ করে আলীকদম জোনের মেন্দনপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করছেন।
এ বিষয়ে আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ আরও গতিশীল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বেসামরিক প্রশাসন, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং সেনাবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এ কার্যক্রম একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, শিশুদের প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।