
তীব্র গরমে সাদুল্লাপুরে ভয়াবহ লোডশেডিং: বিদ্যুৎ অপচয় রোধে কঠোর হওয়ার পরামর্শ।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মোঃ বেলাল মিয়া।
সাদুল্লাপুর, তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আকাশচুম্বী হওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
সাদুল্লাপুরের বর্তমান চিত্র:
সাদুল্লাপুর উপজেলাটি মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় এই সময়ে সেচ কাজের জন্য বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, শঠিবাড়ী (সাদুল্লাপুর) এর অধীনে থাকা এই উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরে কিছু সময় বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রামগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, যা বোরো মৌসুমের ধান ও রবি শস্যের আবাদকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
বিদ্যুৎ অপচয়ের মূল ক্ষেত্রসমূহ:
বিদ্যুতের এই সংকটের পেছনে জাতীয় গ্রিডের সমস্যার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ অপচয়কেও দায়ী করছেন সচেতন মহল। সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট, নলডাঙ্গা ও উপজেলার প্রধান বাজারগুলোতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ অপচয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
অবৈধ ইজিবাইক চার্জিং: উপজেলায় কয়েক হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটো ভ্যান চলছে। এসব যানবাহন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাতের বেলা বা দিনের পিক আওয়ারে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ।
হ্যালোজেন ও জিএলএস লাইটের ব্যবহার: উপজেলার দোকানপাট ও হাট-বাজারে এখনো নিষিদ্ধ প্রায় হ্যালোজেন ও জিএলএস লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রচুর বিদ্যুৎ অপচয় করে।
জরুরি দাবি:
সাদুল্লাপুরের সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধ এবং সাশ্রয়ী এলইডি বাল্বের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে গ্রাহকরা সাদুল্লাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা সরকারি হেল্পলাইন নম্বর ৩৩৩ বা ৯৯৯ এ জরুরি সেবা নিতে পারেন