
মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
উন্নয়নের জোয়ার, স্মার্ট বাংলাদেশ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রচারের আড়ালে চাপা পড়ে আছে বাস্তবতার নির্মম চিত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রাম যেন আজও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের মানচিত্রের বাইরে। স্বাধীনতার পর প্রায় শত বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রামের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি একটি স্থায়ী ব্রিজ। প্রায় সাত থেকে আট হাজার মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নির্ভর করছে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এমনকি গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরও এই সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অবহেলা
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, তাদের জন্মের আগেও এই বাঁশের সাঁকো ছিল, আজও তাই রয়েছে। সময় বদলেছে, সরকার ও জনপ্রতিনিধি বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি ফতেহপুরবাসীর দুর্ভোগ। এক শতবর্ষী বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, তিনি জীবদ্দশায় একটি পাকা ব্রিজ দেখার আশা ছেড়েই দিয়েছেন।
ভোটের আগে আশ্বাস, পরে নীরবতা
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা গ্রামে এসে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ভোট শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায় নীরবতার অন্ধকারে। তাদের প্রশ্ন—ভোট কি শুধু নেওয়ার জন্য, আর উন্নয়ন কি শুধু পোস্টার আর ভাষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
বর্ষায় মৃত্যু ঝুঁকি
বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকোটি হয়ে ওঠে আরও ভয়ংকর। পা পিছলে পড়ে আহত হওয়া নিত্যদিনের ঘটনা। অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই জীবন হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।
উন্নয়ন বাজেটের হিসাব
গ্রামবাসীর প্রশ্ন, এত বছরে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি কিংবা সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ফতেহপুর কেন জায়গা পায়নি। কাগজে-কলমে উন্নয়ন থাকলেও বাস্তবে কেন খালের ওপর একটি ইটও পড়েনি—এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।
ফতেহপুরবাসীর অবস্থান
গ্রামবাসীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর প্রতিশ্রুতি চান না। তারা চান জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকার। তাদের ভাষায়, এটি ভিক্ষা নয়, এটি তাদের ন্যায্য দাবি।
ফতেহপুরের এই প্রশ্ন এখন রাষ্ট্রের উদ্দেশে—একটি ব্রিজ কি সত্যিই এত দামী, যে শত বছরেও একটি গ্রাম তা পায় না?
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।