
শাহরিয়ার সিয়াম,জামালপুর প্রতিনিধি
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশ যখন গভীর শোক ও বেদনায় নিমজ্জিত, ঠিক সেই দিনই জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির এক নেতার কর্মকাণ্ডকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। সারাদেশে এদিন রাষ্ট্রীয় শোকের আবহ বিরাজ করছিল।
এমন শোকাবহ দিনে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. মুরাদুজ্জামান মুরাদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ২০২৬ ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে একটি ব্যানার শেয়ার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে বাট্টাজোড় ইউনিয়নের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে শেয়ার ও মন্তব্যের মাধ্যমে অনেকেই নিন্দা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রীর মৃত্যুর দিনেই একজন বিএনপি নেতার এমন আচরণ অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা হাসান মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন,
“সারাদেশ যখন শোক আর দুশ্চিন্তায় স্তব্ধ, তখন একজন নেতার রাজনীতি সীমাবদ্ধ ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ পোস্টে। নেতৃত্ব মানে পোস্টার নয়, সময় বুঝে নীরবতাও দায়িত্ব। বছর বদলায়, কিন্তু দায়িত্বহীন রাজনীতির শুভেচ্ছা বদলায় না।” এদিকে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন লিখেছেন, সারাদেশ যখন শোকে কাতর, তখন কেউ ব্যস্ত ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ নিয়ে—এটি দুঃখজনক।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মো. মুরাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, তিনি মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তেমন পারদর্শী নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হয়তো তার সন্তানেরাই অজান্তে এ কাজটি করে থাকতে পারে। এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।