
মোহাম্মদ হানিফ,সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনী, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ (রবিবার):
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ফেনীতে মোমবাতি প্রজ্বলন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি কলেজ বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে ফেনী বন্ধুসভার আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত ফেনীর ১১ জন কৃতি শহিদ বুদ্ধিজীবীর স্মরণে প্রতীকীভাবে ১১টি মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। ফেনী বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাত আক্তার জাহানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রথম আলো’র ফেনী প্রতিনিধি ও ফেনী বন্ধুসভার উপদেষ্টা নাজমুল হক শামীম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নুর উদ্দিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক তন্ময় নাথ টিটু, কার্যনির্বাহী সদস্য মনিকা রায়, দেলোয়ার হোসেন, বন্ধু জিহাদ মজুমদার, মো. আবুল হাসান শাহিনসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্য ও নতুন বন্ধুরা। এর আগে বিকেলে শহরের মিজান রোডস্থ আলিয়া মাদ্রাসা মার্কেটের প্রথম আলো অফিসে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজমুল হক শামীম বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র করেছিল। ফেনীর যেসব কৃতি সন্তান শহিদ হয়েছেন, তাদের মধ্যে শহীদ শহীদুল্লা কায়সার, শহীদ জহির রায়হান, শহীদ সেলিনা পারভীন, শহীদ ড. আনম ফজলুল হক মহি, শহীদ ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী, শহীদ ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল আনোয়ার, শহীদ ডা. মেজর রেজাউর রহমান, শহীদ ড. সিদ্দিক আহমেদ, শহীদ ড. সিরাজুল হক খান, শহীদ ড. রফিক আহমেদ ও শহীদ ইঞ্জিনিয়ার সেকান্দার হায়াত চৌধুরী উল্লেখযোগ্য। পাক হানাদার বাহিনী এই ১১ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে ফেনীকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল। তিনি আরও বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেনী বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাত আক্তার জাহান বলেন, বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। শহিদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের গর্ব, তাঁদের আত্মত্যাগ আমরা আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব। সেই অঙ্গীকার থেকেই ফেনীর ১১ জন শহিদ বুদ্ধিজীবীর স্মরণে ১১টি মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।