
আবু বক্কর ছিদ্দিক,স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার পশ্চিম চরদরবেশ এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে মাটি বিক্রির দায়ে দুই ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে মাটিকাটায় ব্যবহৃত দুটি এস্কেভেটর অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বক্কর ছিদ্দিক (৩৮), পিতা রুহুল আমিন এবং আব্দুর রহমান সুমন (৩০), পিতা আব্দুর রশিদ। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র পশ্চিম চরদরবেশ এলাকার ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিল। এতে কৃষিজমির মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে অবৈধ মাটিকাটার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অবস্থায় আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আব্দুর রহমান সুমনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত আবু বক্কর ছিদ্দিককে এক মাসের এবং আব্দুর রহমান সুমনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ সময় মাটি কাটায় ব্যবহৃত দুটি এস্কেভেটর ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো অকেজো করে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে আর অবৈধ কাজে ব্যবহার করা না যায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোনাগাজী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইউসুফ মিয়া। অভিযানে বাংলাদেশ আনসার ও পুলিশের সদস্যরা সহায়তা করেন। প্রশাসনের বক্তব্যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইউসুফ মিয়া বলেন, ফসলি জমির টপসয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অভিযানে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, টপসয়েল কেটে নেওয়ার কারণে জমিতে আগের মতো ফলন হয় না। প্রশাসনের এই উদ্যোগে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, মাটি কাটার ফলে জমিতে পানি জমে চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়ছিল, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। এলাকার সাধারণ বাসিন্দারাও অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোছা. সালমা বেগম বলেন, রাতে ট্রাক ও এস্কেভেটরের শব্দে ঘুমানো যেত না, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। অভিযান হওয়ায় আমরা আশাবাদী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, এই অবৈধ মাটিকাটার পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করে, নিয়মিত অভিযান না হলে তারা আবার সক্রিয় হবে। ফসলি জমির উর্বরতা রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।