
বন্যার্ত মানুষের পাশে আলীকদম সেনা জোন: ২৩৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনা জোন।
রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) আলীকদম উপজেলার ২ নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়। আলীকদম সেনা জোনের মেডিকেল অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ক্যাম্পে সর্বমোট ২৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১৩৫ জন নারী এবং ১০০ জন পুরুষ ছিলেন।
মেডিকেল ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, ত্বকের সংক্রমণ, পানিবাহিত রোগসহ বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ পানি ব্যবহার, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের মাঝে আনুমানিক ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পুরো কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এ সময় স্থানীয় জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ সময়োপযোগী মানবিক উদ্যোগের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি বলেন,”বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় দেশের মানুষের পাশে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের মানবিক দায়িত্বের অংশ। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চিকিৎসাসেবা, ত্রাণ সহায়তা এবং অন্যান্য মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনা জোন জানায়, দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও বন্যাদুর্গত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা, ত্রাণ বিতরণ এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।