
লেখক ও ইসলামিক গবেষক
তিনি এনজিও UBINIG প্রতিষ্ঠা করেন এবং কৃষিভিত্তিক ‘নয়াকৃষি আন্দোলন’ (New Agriculture Movement) শুরু করার জন্যও পরিচিত। পাশাপাশি তিনি ‘Chinta’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে সমাজ, ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে আসছেন।
২০২৪–২৫ সালে দেশে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য, বিশেষ করে “গণ–অভ্যুত্থান”, “সংবিধান পুনর্লিখন” এবং “জনগণের শাসন” বিষয়ে বিশ্লেষণ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সম্প্রতি তার প্রকাশিত বই ‘ইবাদতনামা’ নিয়ে নতুন করে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বইটির ৫৯ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি কবিতায় তিনি ইসলামের পবিত্র নিদর্শন আযান ও নামাজ সম্পর্কে অশ্রদ্ধাপূর্ণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকরা দাবি করেছেন—কবিতায় তিনি আল্লাহকে ‘বধির’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং নামাজকে ‘অধর্মের ময়দান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা হলে ফরহাদ মজহার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন—
“আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা মানে আমাকে গ্রেফতার করা।”
এ মন্তব্যের পর বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
বাংলার ঐতিহ্যিক বাউল ধারার শ্রদ্ধেয় সাধক শাহ আবদুল করিম, লালন শাহ, চিশতি বাউলদের মানবতা, প্রেম ও সাম্যের শিক্ষার বিপরীতে—বর্তমানে কিছু তথাকথিত বাউলের মাধ্যমে তান্ত্রিক, সহজিয়া ও যৌন আচারের বিকৃত ব্যাখ্যা ছড়ানোর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর দার্শনিক অক্ষয় কুমার দত্ত, মুনশী ফছিহ উদ্দীন, নন্দগোপাল সেনগুপ্ত, শান্তি সিংহ এবং তপনকুমার বিশ্বাস তাঁদের লেখায় এসব গোপন আচার–অনুশীলনের কথা তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলোর বেশিরভাগই মূলধারার বাউলধর্ম নয়, বরং সহজিয়া তান্ত্রিক মতবাদের বিকৃতি, যা কিছু এলাকায় ‘বাউল আসর’ নামে প্রচার পেয়ে এসেছে এবং যেখানে ধর্মগ্রন্থের আয়াত বা মূল্যবোধকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করার অভিযোগও রয়েছে।
বাউল আবুল সরকারকে নিয়ে তীব্র আন্দোলন দেখা গেলেও ফরহাদ মজহারের লেখা নিয়ে নীরবতা কেন—এ প্রশ্ন তুলছেন ধর্মীয় আলেম ও সাধারণ মানুষ।
তারা বলছেন—ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এক হলে বিচার ও প্রতিক্রিয়াও সমান হওয়া উচিত।
বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রশ্নে বিতর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সমাজের দায়িত্বশীল বুদ্ধিজীবী ও আলেম–উলামারা বলছেন—
সত্য ও গবেষণার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর আচার, মতবাদ ও উস্কানিমূলক বক্তব্য চিহ্নিত করা এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।