
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাইতলা পশুর হাট সংকটে
রিহান সিকদার , স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল ।
ক্রেতা- বিক্রেতার অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের ভয় ও সরকারি ইজারা মূল্য বৃদ্ধি এবং ইজারাদারদের হাট পরিচালনা ব্যায় বৃদ্ধি হওয়ায় উভয় সংকটে এই হাট। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন নতুন হাট গড়ে ওঠায় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই হাটটি। ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্থানীয়দের অভিযোগের মুখে হাটের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
একসময় টাঙ্গাইল ও আশেপাশের অঞ্চলের মানুষের কাছে পশুর হাটের বিশ্বস্ত নাম ছিল মির্জাপুরের কাইতলা হাট। প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো এই প্রাঙ্গণ। কিন্তু সেই ব্যস্ত চিত্র এখন কেবলই স্মৃতি। বর্তমানে হাটে পশুর আমদানি যেমন কমছে, তেমনি কমছে ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ই এই হাটের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে। বর্তমানে একটি পশু বিক্রি করলে বিক্রেতাকে দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা এবং ক্রেতাকে গুণতে হচ্ছে ১৫০০ টাকা খাজনা। খরচের কারণে সাধারণ মানুষ এই হাট বিমুখ হয়ে পড়ছেন।
এক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ জানিয়েছেন, ভাই, হাটের অবস্থা বেশি ভালো না। আমরা ৩-৪টা হাট ধরে দেখছি, কোনোটাতে আগের মতো গরু আসছে না। এখন আমরা কী করবো বুঝতে পারছি না।
এদিকে হাট ইজারাদারের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, সরকারি ইজারা মূল্য অতিরিক্ত হওয়ায় এবং হাটের পরিচালনার খরচ মেটাতে তারা এই খাজনা আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন। তবে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় নতুন হাট গড়ে ওঠায় কাইতলা হাটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আশেপাশের অঞ্চলের অবৈধ পশু হাট বসানো বন্ধ করে দ্রুত এই খাজনা ব্যবস্থা সংস্কার করা না হলে এবং সরকারি উদ্যোগে ইজারা মূল্য কমিয়ে না আনলে হারিয়ে যেতে পারে মির্জাপুরের এই ঐতিহ্যবাহী কাইতলা হাট।