
মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন (ক্রাইম রিপোর্টার)
চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে মূল্যায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ জুনাইদ।
তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন,
“যে কাগজের মুদ্রার বিনিময়ে কমিটি দিলেন, সেই কাগজের মুদ্রা কি আমার শহীদ বাবার রক্তের চেয়েও মূল্যবান?”
স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শহীদের সন্তান হয়েও উপেক্ষিত অভিযোগ : জানা গেছে, জুনাইদ শহীদ মঞ্জুর আলমের সন্তান। তার পিতা বিএনপি ও ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।
জুনাইদের দাবি, সদ্য ঘোষিত কৈয়ারবিল ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে তাকে বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি স্ট্যাটাসে আরও লেখেন,
“আমার প্রতি বারবার অবিচার করা হচ্ছে, আমাকে অমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমার শহীদ পিতার আত্মাও শান্তি পাবে না। আপনারা টাকার বিনিময়ে কমিটি দিচ্ছেন, আমি মূল্যায়ন হওয়ার জন্য টাকা কয় পাবো, আমার তো বাবা নেই।”
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক ‘ত্যাগী কর্মীর’ আক্ষেপ: জুনাইদ জানান, তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা একজন নিবেদিতপ্রাণ ছাত্রদল কর্মী। পরপর দুইবার ইউনিয়ন কমিটিতে প্রার্থী হয়েও অর্থ, তদবির ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে উপেক্ষিত হয়েছেন। তার ভাষায়, “যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে আমার চেয়েও যাদের বেশি মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক অতীত ও আন্দোলনে ভূমিকা যাচাই করা হোক। আমি কোন দিক দিয়ে অযোগ্য, তা প্রমাণ করা হোক।” শেষে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এভাবে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।”
সংগঠনের ভেতরে হতাশা বাড়ছে : স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
অনেকে মনে করছেন, ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ে আদর্শ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় সংগঠনের ভেতরে হতাশা ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।