
মোঃ নুরে আলম, বরিশাল জেলা প্রতিনিধি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বরিশাল সদর উপজেলার সদ্য ঘোষিত ১৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব জনাব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেন। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক ও এই কমিটির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নবনিযুক্ত আহ্বায়ক আলহাজ্ব নূরুল আমিনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু স্বার্থান্বেষী মহলে নানামুখী অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।
কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এই কমিটি প্রায় তিন-চার মাস পূর্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নিকট জমা দেওয়া হয়েছিল। দলের অভিভাবক ও সুযোগ্য চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাক্রমেই অত্যন্ত চুলচেরা বিশ্লেষণের পর এই দায়িত্বশীল ত্যাগী কমিটি অনুমোদন লাভ করেছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজপথের লড়াই ও ত্যাগের ইতিহাস:
আলহাজ্ব নূরুল আমিন বিএনপির কোনো বসন্তের কোকিল নন, বরং দলের চরম দুঃসময়ে ও ক্রান্তিলগ্নে রাজপথ আগলে রাখা একজন পরীক্ষিত সিপাহসালার। বিগত ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে সুদীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তাকে স্বৈরাচারী সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে। তিনি ২৬টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন এবং ৪ বার কারাভোগ করেছেন। এসব মিথ্যা মামলা ও কারান্তরীণ জীবনের কারণে তার ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য ও শারীরিক অবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো আদর্শের প্রশ্নে আপস করেননি।
বিশেষ করে ২০১২ সালের ১২ জুনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করতে যখন বরিশালের লঞ্চঘাট অবরুদ্ধ করা হয়েছিল, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প উপায়ে ঢাকায় পৌঁছে আন্দোলনে যোগদানের ঘটনা বরিশাল বিএনপির ইতিহাসে অন্যতম এক রোমাঞ্চকর ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। এছাড়াও ২০২২ সালের ৫ নভেম্বর বরিশালের বেলপার্কে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণসমাবেশে তৎকালীন সরকারি দলের শত বাধা ও পরিবহন ধর্মঘট উপেক্ষা করে বরিশাল সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বিশাল শোডাউন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন আলহাজ্ব নূরুল আমিন, যা সমাবেশ সফল করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
অপপ্রচারের নেপথ্যে স্বার্থান্বেষী মহল ও আর্থিক লেনদেনের মিথ্যাচার:
সম্প্রতি কিছু কুচক্রী মহল এই ত্যাগী নেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে আর্থিক লেনদেন বা পদ বাণিজ্যের মতো জঘন্য ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলছে। বরিশালের রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে সর্বজননিবেদীত আলহাজ্ব নূরুল আমিন একজন সফল ব্যবসায়ী ও স্বচ্ছ ইমেজের ব্যক্তিত্ব। বরিশাল সদর উপজেলা বা মহানগরের কোনো ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারবে না যে তিনি কখনো কোনো অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন, “আমি দল থেকে নিতে আসিনি, বরং দলের দুঃসময়ে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে দলকে সুসংগঠীত রাখতে দিনরাত কাজ করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির দাগ নেই।”
অভিযোগ উঠেছে যে, যারা অতীতে দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল, যাদের সাথে মাদক ব্যবসা কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, মূলত তারাই নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত করতে ফেসবুকে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। দলের অভিভাবক জনাব তারেক রহমান যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ নিখুঁতভাবে তদারকি করছেন, সেখানে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো প্রকার কুৎসা রটানো সরাসরি দলীয় শৃঙ্খলার চরম অবমাননা।
বহুমাত্রিক সামাজিক ও ব্যবসায়িক পরিচিতি:
আলহাজ্ব নূরুল আমিন কেবল একজন সফল রাজনীতিবিদই নন, বরং বরিশালের ব্যবসা ও সামাজিক ক্ষেত্রে তার রয়েছে অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত ও দায়িত্বশীল অবস্থান।
আহ্বায়ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বরিশাল সদর উপজেলা এবং সদস্য, বরিশাল জেলা (দক্ষিণ)।
ব্যবসা: স্বত্বাধিকারী, আমিন জুয়েলার্স গোল্ড এন্ড ডায়মন্ড ।
ব্যবসায়িক নেতৃত্ব: পরিচালক, দি-বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), বরিশাল জেলা ও বিভাগ।
মিডিয়া ও প্রকাশনা: সম্পাদক , দৈনিক বরিশাল বার্তা।
সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: সভাপতি, ঐতিহ্যবাহী স্টিমার ঘাট জামে মসজিদ এবং সভাপতি, জগদীশ সারস্বত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (১০০০+ ছাত্রী বিশিষ্ট)। এছাড়াও আমিন ফাউন্ডেশন’ (Amin Foundation)-এর মাধ্যমে তিনি নিয়মিত জনকল্যাণমূলক কাজ করে আসছেন।
সর্বোপরি, আলহাজ্ব নূরুল আমিন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি যেকোনো রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা দলীয় তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন। বরিশাল সদর উপজেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কোনো প্রকার বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে জনাব তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যান।