
মোহাম্মদ হানিফ, সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগীয়
ফেনী-০২ আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মনজুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কুশল বিনিময় করেন। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে এ ধরনের আন্তরিক সাক্ষাৎ স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাক্ষাৎকালে দুই নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সহাবস্থান নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। সাক্ষাৎ শেষে মজিবুর রহমান মনজু নবনির্বাচিত এমপি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি’কে মিষ্টিমুখ করান। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালির মাধ্যমে দুই নেতার সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণকে স্বাগত জানান।
অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি’র বক্তব্য
নবনির্বাচিত এমপি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, “নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতভেদ থাকবে—কিন্তু বিভেদ থাকা উচিত নয়। আমি মনে করি, ফেনীর উন্নয়নের স্বার্থে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারি। মনজু ভাই আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমার শ্রদ্ধাভাজন। আজকের এই সাক্ষাৎ প্রমাণ করে, রাজনীতির সৌন্দর্য এখানেই।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি ফেনী-০২ আসনের সকল ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের রাজনীতি গড়ে তুলতে চাই।”
মজিবুর রহমান মনজুর বক্তব্য
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মনজু বলেন,
“নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এবং জনগণের রায়কে সম্মান করি। অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন—আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি যেন ফেনীর মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন, সেটাই আমাদের কামনা।”
তিনি আরও বলেন,
“রাজনীতিতে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ সেই বার্তাই বহন করছে। মতের অমিল থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে ও এলাকার উন্নয়নে আমরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
সাক্ষাৎ শেষে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ‘রাজনীতির সৌন্দর্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করে এবং সহাবস্থানের সংস্কৃতি জোরদার করে। ফেনী-০২ আসনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রমাণ করেছে—প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যই হতে পারে রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।