
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়, গত ২২শে,এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ বুধবার,বিকাল পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত মমতাজ উদ্দিন এর ফেসবুক আইডি থেকে – প্রেসক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি, উল্লেখ করে, কমিটির ছবি সংযুক্ত করে,, প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ এ কমিটিকে “একপেশে ও অস্বচ্ছ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলমান থাকা সত্ত্বেও তা সমাধান না করেই তড়িঘড়ি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো: ইয়াকুব আলীর নাম ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে—কমিটি গঠনে অধিকাংশ কর্মরত ও সক্রিয় সাংবাদিককে বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কমিটির অনেক সদস্য নিয়মিত সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় নন, বরং অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ঘোষিত কমিটির কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা একটি পেশাজীবী সংগঠনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, প্রেসক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যা এখনও খোলা হয়নি বলে জানা গেছে।
একাধিক পত্রিকার তথ্যমতে, প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব নিয়ে পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল এবং সেই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে করে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে বিভক্তি আরও প্রকট হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করছেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন না করে,মনগড়া মনোনয়নের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া ছাড়া এমন কমিটি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বর্তমানে আলীকদমের সাংবাদিক সমাজ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যমের স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।