
অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মোঃ বেলাল মিয়া।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি মানিলন্ডারিং (অর্থ পাচার) মামলায় গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) সকালে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিআইডির একটি বিশেষ দল পলাশবাড়ী থানা পুলিশের সহযোগিতায় রোববার রাতে হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে হরিদাসকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি এবং রাতেই তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান জানান, হরিদাসের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় অর্থ পাচার আইনে মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মকে পুঁজি করে এলাকায় নানা ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতি করে আসছিলেন। অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মনসুর আহমেদ জানান, হরিদাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং মামলাটি সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম টিম তদন্ত করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর সরকারের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সেই মামলা থেকে জামিন নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। এর মাঝে তিনি নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন এবং সুমি ইসলাম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে হরিদাস পুনরায় ভোল পাল্টান এবং নিজ এলাকায় এসে পুরোনো কালি মন্দির সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি ওই মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিলে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মূর্তির বিশাল অঙ্কের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার তদন্ত ও হরিদাসের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়েছিল।