
আবু বক্কর ছিদ্দিক, স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ার জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাত ১১টার দিকে চরদরবেশ ইউনিয়নের চর সাহাভিকারি গ্রামের ফয়সল
কলোনিতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জমাদার বাজারের চা দোকানদার জামশেদ আলমের সঙ্গে একই এলাকার ভাড়াটিয়া মামুন হোসেনের স্ত্রী আছমা বেগমের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ সম্পর্কের বিষয়টি টের পান মো. মোস্তফার ছেলে সুজন (২৫)। তিনি তাদের কিছু ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন এবং রাতে প্রমাণসহ মামুনের বাড়িতে যান।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে, মামুন, তার স্ত্রী আছমা, শাশুড়ি লিপি আক্তার ও জামশেদ মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজনের ওপর হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুজনের মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারে শোকের মাতম , নিহতের মা রহিমা বেগম বলেন, “আমার ছেলেটা কোনো অপরাধ করেনি, শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল। ওদের শাস্তি আমি চাই।”
তিনি বাদী হয়ে মামুন হোসেন, তার স্ত্রী আছমা বেগম, শাশুড়ি লিপি আক্তার এবং জামশেদ আলমের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
দ্রুত অভিযানে পুলিশ : ঘটনার পরপরই সোনাগাজী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকেই গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মামুন হোসেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌপাল্লি গ্রামের সোলেমান মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
সোনাগাজী থানার এক কর্মকর্তা জানান,
“ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”