
আবু বক্কর ছিদ্দিক, স্টাফ রিপোর্টার (ফেনী):
ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মধ্যম চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ অবকাঠামোগত সংকট আর পুরনো আসবাবের কারণে প্রায় ধ্বংসের পথে। বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, এমনকি টিনশেড ভবন পর্যন্ত এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুরনো আসবাব আর ভাঙাচোরা ভবনে পাঠদান বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে—চেয়ার-টেবিলগুলো বহু বছর পুরনো, অনেকগুলোর পা ভাঙা ও কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালে ফাটল, রং উঠে গেছে। একটি টিনশেড ভবনের ছাদের টিন মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে; বৃষ্টির সময় পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। অন্যদিকে পাকা ভবনের পেছনে গাছপালা আর বাঁশঝাড়ে দেওয়ালের অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক অফিসকক্ষেও নেই ভালো মানের কোনো আসবাব। পুরনো কাঠের টেবিল ও বাঁকা চেয়ারে চলছে প্রশাসনিক কাজ।
শিক্ষার্থী কমছে, হতাশ শিক্ষকরা : বিদ্যালয়ে এখন ছাত্রসংখ্যা অল্প। প্রধান শিক্ষিকা জানান, “আমরা নিয়মিত ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি এবং অভিভাবকদের সচেতন করছি। তবে ভবন ও আসবাবের সংস্কার এখন খুবই জরুরি।” অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলছেন, “বহুবার সংস্কারের নামে অনুদান এলেও সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়নি।”
তাদের অভিযোগ, তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কিছু ব্যক্তি নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
বিকল্প হিসেবে বেসরকারি স্কুলে ঝুঁকছেন অভিভাবকরা: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশেপাশে গড়ে ওঠা ‘লেমুয়া একাডেমি কিন্ডারগার্টেন’-এর প্রতি অনেক অভিভাবকের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা কমে যাচ্ছে দিন দিন। এলাকাবাসীর দাবি—বিদ্যালয় ভবনের সংস্কার ও নতুন আসবাবের ব্যবস্থা না হলে শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।