
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের হাট-বাজার, ঘাট ও বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টোল-ট্যাক্স আদায়ের ইজারা ডাক প্রকাশ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তদারকি ও কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে ১২ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) সকালে অনুষ্ঠিত এ ইজারা ডাক স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
ইজারা ডাকে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা দর দিয়ে ইজারা লাভ করেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ঠিকাদার জিয়াবুল হক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা নুরুল আবসার সোহেল দর দেন ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা মোহাম্মদ কামাল দর দেন ৫৯ লাখ টাকা।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাজবুব এলাহী জানান, ইজারা ডাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২৩ জন ব্যক্তি দরপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ২২ জন প্রকাশ্য ডাকে অংশগ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিধি-বিধান অনুসরণ করে সর্বোচ্চ দরদাতার অনুকূলে ইজারা প্রদান করা হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান ইতু বলেন, সুষ্ঠু, নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথা বিবেচনা করে ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি দর প্রদান না করায় সর্বোচ্চ দরদাতার অনুকূলে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১২ মে প্রথম দফায় ইজারা ডাক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সে সময় রেকর্ডসংখ্যক ১৩৬ জন অংশগ্রহণ করেন এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দর উঠলেও পরবর্তী জটিলতার কারণে ওই প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। পরে সরকারি রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খাস কালেকশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটিয়ে বুধবার উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তদারকিতে পুনরায় প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে ইজারা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশে ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান ইতুসহ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তদারকি ও নজরদারি নিশ্চিত করা হয়।
সচেতন মহলের অভিমত, প্রশাসনের সরাসরি তদারকি, প্রকাশ্য দরপত্র এবং প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সরকারি রাজস্ব আদায় যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে।