
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মোঃ বেলাল মিয়া।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ করে ধাপেরহাটের ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাটি নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকসহ দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল তা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সত্য ঘটনাকে আড়াল করতে ওই মহলটির মদদপুষ্ট কিছু ব্যক্তি একে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের দাবি, ধাপেরহাটে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো সাধারণ বা সাজানো বিষয় নয়, বরং এটি শতভাগ সত্য। একটি মহল সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিরোধিতা করলেও মূল সত্যকে কোনোভাবেই ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু ধাপেরহাটের ঘটনাই নয়, সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা, অবৈধ যান মহিন্দ্রা আটকানোসহ ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিদায়ী এসিল্যান্ডের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা তথ্য উঠে এসেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময়ে যে বিশাল অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সরকারি রাজস্ব খাতে হয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝর । স্থানীয়দের মতে, আইন ও নিয়মবহির্ভূত অনিয়মের কারণেই যে সেখানে এই জরিমানা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় ও দোষ প্রমাণিত হয়।
এদিকে, এই সত্য ঘটনা প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। সাংবাদিক সমাজ যখনই কোনো অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে, তখনই তাদের একটি অংশকে ভিন্ন ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সাংবাদিক মহলের ভেতর থেকেই গুটি কয়েক ব্যক্তি আজ এই সত্য প্রচারের বিরোধিতা করছেন এবং অন্যায়ের ঢাল হিসেবে কাজ করছেন, যা পুরো পেশার ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবসময়ই নানামুখী নির্যাতন, হুমকি ও চাপের শিকার হন। এই ধরনের নির্যাতন ও অন্যায়ের প্রতিকার আনতে গেলে সাংবাদিকদের নিজেদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হয় এবং সত্যের আশ্রয় নিতে হয়। সেখানে নিজেদের ভেতরের কিছু মানুষ কেন সাময়িক লোভ বা মোহের বশে নিজেদের এবং পুরো সাংবাদিক সমাজের ক্ষতি ডেকে আনছেন, তা সত্যিই বোধগম্য নয়।
তথ্য উপস্থাপন বা দেখার দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে সামান্য একটু উনিশ-বিশ বা তফাত হতে পারে, কিন্তু মূল সত্য ঘটনাটি কখনোই সম্পূর্ণ মিথ্যা বা অপপ্রচার হতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে, একজন স্বচ্ছ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে সমাজের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সত্য প্রকাশের লক্ষ্যে সবসময় অটুট ও অবিচল থাকার জন্য সাংবাদিক সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিকরা ।