
বাল্যবিবাহের ছোবলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ছে মেধাবী মুখ
মোঃ মাহবুবুল আলম বিভাগীয় ব্যুরো চীফ ময়মনসিংহ
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ময়মনসিংহের গ্রামাঞ্চলেও বাল্যবিবাহ একটি নীরব সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর ফলে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী—বিশেষ করে কিশোরীরা—মাঝপথেই শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার, নিরাপত্তাহীনতার ভয় এবং সচেতনতার অভাবের কারণে অভিভাবকরা অল্প বয়সেই তাদের সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি বা এইচএসসি শেষ করার আগেই পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।
সম্প্রতি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর মেধা তালিকায় ১ম হওয়া আয়শা খাতুনকে তার পরিবার বিয়ে দিয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহায় বিদ্যালয়ের ছুটি থাকায় তার বিবাহ সম্পন্ন হয়।৭/০৬/২০২৬ ইং তারিখে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বিবাহের পর তার লেখা পড়া অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শিক্ষকদের মতে, বাল্যবিবাহ শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়নের জন্যও বড় বাধা। কারণ একটি মেয়ে শিক্ষিত হলে সে একটি পরিবার, এমনকি একটি সমাজকে আলোকিত করতে পারে। কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার ফলে তাদের সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলেও পরিবারের চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই আবার সংসারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে আর স্কুলে ফিরতে পারেনি।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
সচেতন মহলের দাবি, বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পাবে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।