
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আলীকদম সেনা জোন: নৌকায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ১৮৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনা জোন। মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনসেবার অংশ হিসেবে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় ১৮৭টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে সেনা জোন।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি।
বিরূপ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতা উপেক্ষা করে তিনি নৌকাযোগে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে নিজ হাতে বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নদীর উভয় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে। অনেক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত
হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে আলীকদম সেনা জোন।
প্রথম পর্যায়ে উপজেলার রোয়াম্ব পাড়া, আব্বাস কারবারি পাড়া, খুল্লামিয়া পাড়া এবং মংচা পাড়ার মোট ১৮৭টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রোয়াম্ব পাড়ার ৪০টি, আব্বাস কারবারি পাড়ার ৯৭টি, খুল্লামিয়া পাড়ার ২০টি এবং মংচা পাড়ার ৩০টি পরিবার এই সহায়তার আওতায় এসেছে।
ত্রাণ বিতরণকালে জোন কমান্ডার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
ত্রাণপ্রাপ্ত পরিবারগুলো সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সেনাবাহিনীর দ্রুত উপস্থিতি ও সহায়তা তাদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করেছে এবং নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
আলীকদম সেনা জোন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে, যাতে কোনো দুর্গত পরিবার প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আর্তমানবতার সেবায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।