1. thpshopbd@gmail.com : admin :
ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাকারী সংস্থার ঈদ পুনর্মিলনী ও নতুন সদস্য পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত - probahonewstv
June 13, 2026, 9:25 pm

ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাকারী সংস্থার ঈদ পুনর্মিলনী ও নতুন সদস্য পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, March 24, 2026
  • 133 Time View

ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাকারী সংস্থার ঈদ পুনর্মিলনী ও নতুন সদস্য পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

আবু বক্কর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।

ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাকারী সংস্থার এক বর্ণাঢ্য ঈদুল ফিতর পুনর্মিলনী ও নতুন সদস্য পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের সৌদিয়া হোটেলের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংস্থার নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ হানিফ। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ নুর ইসলাম ও রবিউল আলম মিটু। সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা করেন দাগনভূঞা উপজেলার সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাস্টার আবুল কাশেম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “মানবাধিকার রক্ষায় সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা কম নয়। তাদের পাশে দাঁড়াতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক কর্তব্য, যা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের পালন করা উচিত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফেনী জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুল হক চৌধুরী । তিনি বলেন, “মানবাধিকার সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। একটি শিক্ষিত সমাজই পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। তাই আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানবাধিকার বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।” তিনি নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরেক বিশেষ অতিথি আলাউদ্দিন ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, “মানবাধিকার শুধু একটি শব্দ নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার সংগ্রাম। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।” তিনি সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান এবং সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহকারী পরিচালক হাফেজ বরকত উল্ল্যাহ (ইমাম সমিতির সভাপতি, ফেনী জেলা) বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। ইসলামসহ সকল ধর্মেই মানবাধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।” তিনি সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফেনী সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার কামরুজ্জামান জিকু, এডভোকেট রোমানা আক্তার নিপু এবং নারী ও শিশু নির্যাতন ব্যুরোর প্রধান রোকসানা আক্তার সুমি। বক্তারা তাদের বক্তব্যে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা বৃদ্ধি এবং সমাজে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন সদস্যদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, প্রতিটি সদস্য মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন হোক এবং অন্যদেরও সচেতন করুক। মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।” তিনি সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ফেনী জেলা শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী, তথ্য অফিসার আলা উদ্দিন ভুঁইয়া, জেলা তথ্য অফিসার ওসমান, ফেনী পৌর সভাপতি উসমান গনীসহ দাগনভূঞা, ফুলগাজী ও সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও ফেনী জেলার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ঈদ পুনর্মিলনীর আনন্দঘন পরিবেশে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সফল। উপস্থিত অতিথিরা এমন আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

See also  টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে এক নারীর দুটি বিয়ে

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category