
জিল্লুর রহমান ,বিশেষ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সৌদি আরব থেকে আসা দুম্বার মাংস বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগের পর বঞ্চিত এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে প্রেসক্লাবের একদল সাংবাদিক ভেড়ামারার দারুল এহসান মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার হিসেবে গরুর মাংস তুলে দেন। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর (শুক্রবার) সৌদি আরব থেকে দুম্বার মাংস আসার পর ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন মোট ১৬ কার্টন মাংস বরাদ্দ পায়। প্রতিটি কার্টনে ছিল ১০টি প্যাকেট, প্রতিটির ওজন প্রায় আড়াই থেকে তিন কেজি—মোট আনুমানিক ১০ থেকে ১১ মণ মাংস।
তবে ওইদিন সরকারি ছুটির মধ্যে তড়িঘড়ি করে মাত্র ২–৩ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ মাংস ভাগাভাগি করে নেয়। এতে কিছু মাদ্রাসা, সরকারি কর্মকর্তা ও আনসার ক্যাম্প পেলেও, শহরসংলগ্ন দারুল এহসান মাদ্রাসা ও আশপাশের প্রায় ২০টি এতিমখানা বঞ্চিত হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা জুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা মানবিক উদ্যোগ নেন। তারা বঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে নিজ উদ্যোগে গরুর মাংস ক্রয় করে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন।
দারুল এহসান মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম হাফেজ হারুন বলেন,
“আমাদের মাদ্রাসায় ৮৫ জন শিক্ষার্থী তিনবেলা খাওয়াদাওয়া করে, এর মধ্যে ২৬ জন এতিম। প্রতিবছর সৌদি আরব থেকে আসা দুম্বার গোশত পেতাম, কিন্তু এ বছর কিছুই পাইনি। সাংবাদিক ভাইয়েরা এতিম শিশুদের কথা ভেবে উপহার দিয়েছেন—আমরা তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ।”
উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক রেজাউল করিম (দৈনিক যুগান্তর), ওয়ালিউল ইসলাম ওলি (দৈনিক জনবানী), শাহ্ জামাল (দৈনিক মানবজমিন ও শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান), আজিজুল হাকিম (দৈনিক সমকাল), বুলবুল আহমেদ (দৈনিক কালবেলা), মনোয়ার হোসেন মারুফ (চ্যানেল এস), মোহন আলী (দৈনিক আজকের গোয়েন্দা সংবাদ) ও সাংবাদিক তুর্য প্রমুখ।
সাংবাদিকরা বলেন,
“ভেড়ামারার সাংবাদিকরা অন্যায়, অনাচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আপোষহীন। প্রকৃত সাংবাদিকতা মানে সত্য প্রকাশে সাহসী থাকা—যে যত শক্তিশালী হোক না কেন।”