
মোহাম্মদ হানিফ, সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগীয়
ছাগলনাইয়া পৌরসভা এর ৩নং ওয়ার্ডে হিছাছড়া নলুয়া খালের ওপর নির্মিত একটি ব্রীজ চার মাস আগে সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে দক্ষিণ সতর এলাকার বরকন্দাজ পাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি মহল্লার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ সাড়ে ৪ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রীজটি নির্মাণ করে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় হিছাছড়া নলুয়া খালের আগের ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এলাকাবাসীর চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরে নতুন করে ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদার হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দীর্ঘ সময় উধাও হয়ে যান। এতে করে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। পরে স্থানীয়দের ধারাবাহিক তদবির ও প্রচেষ্টায় প্রায় এক বছর পর পুনরায় কাজ শুরু হয় এবং চার মাস আগে ব্রীজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।
তবে ব্রীজ নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এখনো নির্মিত হয়নি সংযোগ সড়ক। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রীজের দুই পাশে মাটি ভরাট বা সড়ক সংযোগ না থাকায় এটি কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নুরুল করিম, মোঃ নুরুন নবী ও রাকিব হোসেন বলেন, “ব্রীজ নির্মাণ করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। কাজ শেষ হওয়ার চার মাস পার হলেও এখনো সংযোগ সড়ক করা হয়নি। এটি আমাদের প্রধান সড়ক। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
তাদের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে রোগী পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তি বাড়ছে। এ বিষয়ে তৌহিদুল ইসলাম, ছাগলনাইয়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ব্রীজটি জনগণের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হবে।” তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কবে নাগাদ এই ‘খুব দ্রুত সময়’ বাস্তবে রূপ নেবে? দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও দুর্ভোগের অবসান চান তারা। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ব্রীজটি ব্যবহারের উপযোগী করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
Probaho News TV — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।