
আবু বক্কর ছিদ্দিক
স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া এক প্রার্থী বলেছেন, জয়-পরাজয় নির্বাচনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং ৮০ হাজারের বেশি ভোট পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক অনন্য অর্জন। তিনি জানান, নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন এবং এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বহু শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন করে খোঁজখবর ও সমবেদনা জানালেও গত কয়েক সপ্তাহ কাজের চাপে অনেকের ফোন রিসিভ করতে পারেননি বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। “স্বাভাবিক সৌজন্যও অনেক ক্ষেত্রে রক্ষা করতে পারিনি, এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত,” বলেন তিনি।
প্রচলিত ব্যবস্থায় আদর্শবাদী দলের জন্য পূর্ণাঙ্গ বিজয় কঠিন
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের মূল্যায়নে তিনি বলেন, নির্বাচন শুধু প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গণসংযোগ বা জোট গঠনের ওপর নির্ভর করে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটারদের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টি, অপপ্রচার, প্রশাসনিক প্রভাব এবং নির্বাচনের আগের রাত থেকে মাঠ দখলের মতো নানা কৌশল প্রচলিত রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি অভিজ্ঞ দল। তাদের প্রার্থীরা নির্বাচনের ঝানু খেলোয়াড়। সে বিবেচনায় তারা যোগ্য দল বলেই বিজয়ী হয়েছে।” তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আসন সংখ্যায় কিছুটা হেরফের হতে পারত। তার মতে, প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া আদর্শভিত্তিক দলের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জন করা কঠিন। বড় ব্যবধানে জয়লাভের পেছনে যদি অপকৌশল থেকে থাকে, তবে তা বিজয়ী দলের ভেতরেও নৈতিক ক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
নতুন প্রার্থী হয়েও ৮০ হাজার ভোট
নিজেকে নতুন ও অপ্রস্তুত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অল্প কয়েকদিনের প্রচার-প্রচারণায় এবং সম্পূর্ণ নতুন মার্কায় নির্বাচন করে ৮০ হাজারের বেশি ভোট পাওয়া অকল্পনীয় ব্যাপার।” এই অর্জনের পেছনে তিনি বিশেষভাবে কৃতিত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র শক্ত ভোটব্যাংক ও কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমকে। পাশাপাশি ছাত্রশিবির, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকদের আন্তরিক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “জামায়াতের নারী-পুরুষ কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, তরুণদের অদম্য কর্মস্পৃহা এবং শরিক দলগুলোর সমর্থন আমাকে বিমোহিত করেছে। মহান আল্লাহর দরবারে এর শুকরিয়া জানানোর ভাষা নেই।”
আর্থিক সহায়তাকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা
প্রার্থী আরও জানান, পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই আর্থিক সহায়তা, দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। কেউ কেউ শেষ মুহূর্তে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের কাছে আজীবনের জন্য ঋণী হয়ে গেলাম।”
ফেনীবাসীর প্রতি অঙ্গীকার
নির্বাচন তাঁকে নতুন শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগবে। ফেনীবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের জন্য চেষ্টা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা উৎসর্গ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। সে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অটল ও অবিচল থাকব ইনশাআল্লাহ।” পরাজয় সত্ত্বেও জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।