
সাঘাটা বাঙ্গালী নদীর ওপর সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবিতে ফুঁসছে এলাকাবাসী।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মোঃ বেলাল মিয়া।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাঙ্গালী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর চরম ভোগান্তিতে দিন পার করছেন দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। উপজেলার কামালের পাড়া ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন একটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলার বৃহত্তম ইউনিয়ন কামালের পাড়ার বুক চিরে বয়ে গেছে বাঙ্গালী নদী। নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত ১০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। বর্ষাকালে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র অবলম্বন।
এলাকাবাসীর এই দুর্দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, গাইবান্ধা জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি বলেন, “সেতু না থাকার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকি। বিশেষ করে ছোট ছোট সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়—কখন জানি কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়! এছাড়া সময়মতো বাজারে পণ্য নেওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় ৪-৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের দাবি, অতি দ্রুত এই নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। এই একটি সেতু নির্মিত হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে এবং যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”
একই সুরে আক্ষেপ প্রকাশ করেন বারকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আসাদুল ইসলাম। তিনি জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয় কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে নিতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হলে আর কেউ খবর রাখেন না। কামালের পাড়া ও জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম সাজু ও আমিনুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম জানান, বাঙ্গালী নদীর ওই পয়েন্টে সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।