
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
দুটি ট্রাভেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় ঢাকা থেকে আসা পর্যটকদের ভোগান্তির অভিযোগ।
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রি এলাকায় পর্যটকদের ফেলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুটি ট্রাভেল গ্রুপের বিরুদ্ধে। ‘ভ্রমণ প্রিয় পর্যটক’ ও ‘ঘুরি বাংলাদেশ’ নামের ট্রাভেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা একটি দল চরম ভোগান্তির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পর্যটকদের দাবি, ভ্রমণের এক পর্যায়ে তাদের থানচির রেমাক্রি এলাকায় রেখে সংশ্লিষ্টরা চলে যান। পরে বিপাকে পড়া ৪৭ জন পর্যটক স্থানীয় জনসাধারণ ও থানচি উপজেলার ট্যুর গাইডদের সহযোগিতায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার এলাকায় তিন্দু সড়কের মাথায় উপস্থিত হন।
থানচি উপজেলার ট্যুর গাইড সেলিম জানান, দুটি টুর গ্রুপের চারজন হোস্ট তাকে গাইড হিসেবে বুক করেন। পরে তারা তাকে এবং ৪৭ জন পর্যটককে রেমাক্রি এলাকায় রেখে চলে যান। এতে পর্যটকরা চরম বিপাকে পড়েন।
এক পর্যায়ে তারা আলীকদম উপজেলার টুরিস্ট পরিবহনের সহায়তায় আলীকদমে পৌঁছান। বিষয়টি আলীকদমে কর্মরত সাংবাদিকদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনজুর আলম-এর কাছে পৌঁছালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনজুর আলম বলেন, “হয়রানির শিকার পর্যটকদের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নিরাপদে ঢাকায় ফেরার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পর্যটকদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি।”
পর্যটক মোঃ মাহামুদুল হাসান জানান, ট্রাভেল গ্রুপটি প্রতিটি পর্যটকের কাছ থেকে ৬ হাজার ৯৯৯ টাকা করে তিন দিন চার রাতের প্যাকেজে তাদের থানচিতে নিয়ে আসে। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এ ঘটনায় সহায়তা পাওয়ায় পর্যটকরা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ, ট্যুর গাইড ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Probaho News TV — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।