1. thpshopbd@gmail.com : admin :
ব্যালটের পরও রক্ত - probahonewstv
September 22, 2026, 8:57 am

ব্যালটের পরও রক্ত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোঃ শাহিনুল ইসলাম
  • Update Time : Monday, February 16, 2026
  • 105 Time View
ব্যালটের পরও রক্ত কেন? | রাজনৈতিক সহাবস্থানের সংকট | Probaho News24

রাজনৈতিক সহাবস্থান বড় চ্যালেঞ্জ

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
মোঃ শাহিনুল ইসলাম

ঢাকা, ২০২৪ সালের ‘মনসুন রেভল্যুশন’ বা গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের মানুষ আশা করেছিল বুলেটের বদলে ব্যালটই হবে ক্ষমতার পরিবর্তনের একমাত্র ভাষা। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও পরে দেশজুড়ে যে সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠেছে, তা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সহিংসতার পরিসংখ্যান ও করুণ চিত্র

দীর্ঘদিন পর ভোটাররা সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ময়মনসিংহ, মুন্সিগঞ্জ ও ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, তাদের প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন হামলায় আহত হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ৪৭ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

কেন এই অস্থিরতা?

নিবন্ধে ড. খান শরীফুজ্জামান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী সহিংসতা কেবল আদর্শগত দ্বন্দ নয়; বরং এর গভীরে রয়েছে স্থানীয় ক্ষমতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি। বিজয়ী পক্ষ যেমন আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, পরাজিত পক্ষ তেমনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি

সহিংসতা কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষতি নয়, বরং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। এর নেতিবাচক প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ভোটারদের অনীহা: ভয়ের কারণে ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হয়ে পড়লে ভোটাধিকার অর্থহীন হয়ে পড়ে।
২. প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব: বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিরাজনীতিকরণ: অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানের ঝুঁকি বাড়ে।

সমাধানের পথ

একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। জয়-পরাজয় মেনে নিয়ে দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। দলীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং পুলিশ-প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি। পাশাপাশি পেশিশক্তির পরিবর্তে মেধা ও সামাজিক অবদানের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। মূল শিক্ষা হলো—শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়; ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করাই প্রকৃত পরীক্ষা।

See also  ভোরবাজারে আন্তঃইউনিয়ন মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত নাজিরপুর চ্যাম্পিয়ন, সুলতানপুর রানার–আপ; উৎসবমুখর পরিবেশে ট্রফি–মেডেল বিতরণ

Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category