1. thpshopbd@gmail.com : admin :
বান্দরবানে এলজিইডির সড়ক নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম, উন্নয়নের মুখোশে লুটপাটের অভিযোগ - probahonewstv
April 26, 2026, 4:26 am

বান্দরবানে এলজিইডির সড়ক নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম, উন্নয়নের মুখোশে লুটপাটের অভিযোগ

মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ,বান্দরবান
  • Update Time : Thursday, January 8, 2026
  • 128 Time View
উন্নয়নের নামে বান্দরবানে এলজিইডির সড়ক নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম। পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহার, নিম্নমানের সামগ্রীতে প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পের স্থায়িত্ব।

পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহার, নিম্নমানের সামগ্রীতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা

মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি

উন্নয়নের নামে বান্দরবানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা ও কারিগরি নির্দেশনা উপেক্ষা করে পাহাড় কেটে নেওয়া মাটি ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম উদ্বেগে স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান সদর উপজেলার চিম্বুক সড়ক থেকে ফারুক পাড়া হয়ে বড় পাহাড় পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ কাজে বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ি লাল মাটি, ছাঁকনিবিহীন বালু এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া। কোথাও কোথাও পাহাড় কেটে নেওয়া কাঁচা মাটি সরাসরি সড়কের সাব-বেস ও বেস লেয়ারে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা সামান্য বৃষ্টিতেই ধুয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প শুরুর পর থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দ্রুত বিল উত্তোলনের উদ্দেশ্যে কাজ করছে। মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকি না থাকায় কাগজে-কলমে কোটি টাকার উন্নয়ন হলেও বাস্তবে কয়েক মাসও টিকবে না— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। ফারুক পাড়া এলাকার বাসিন্দা লালকুপ বম বলেন, ‘এই সড়ক জনগণের টাকায় হচ্ছে। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে ঠিকাদার আর কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেট ভরানোর প্রকল্প। বর্ষা এলেই সব ধসে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বালু নেই বললেই চলে, আশপাশের পাহাড় কেটে মাটি এনে সড়কে দেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের কোনো উপকার হবে না, বরং ভোগান্তি বাড়বে।’

সড়ক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত স্কেভেটর চালক মাসুদ জানান, ‘ঠিকাদার যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে, সেভাবেই কাজ করছি। পার্শ্ববর্তী পাহাড় কেটে মাটি সড়কে দেওয়া হচ্ছে।’ এ বিষয়ে বান্দরবান সদর উপজেলার এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী অনুপম সিকদার বলেন, ‘সড়ক নির্মাণে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহারের কোনো নিয়ম নেই। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে এই মুহূর্তে নেই।’ প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি মাটি সড়ক নির্মাণের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। এতে পানি শোষণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ধস, ফাটল ও ভাঙন দেখা দেয়। তবুও এসব ঝুঁকি জেনেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়।

See also  হ্যাঁ ভোটে সংস্কার আহ্বান

পরিবেশবিদদের ভাষ্য, সড়ক নির্মাণের নামে পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহার শুধু অনিয়ম নয়, এটি পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক আঘাত। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ‘ঠিকাদারকে পাহাড় কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। সড়কে পাহাড়ের মাটি ব্যবহারের কোনো প্রশ্নই আসে না। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে তদন্ত করবো। পাহাড়ের মাটি ব্যবহার প্রমাণিত হলে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হবে না।’ শুধু এই সড়ক নয়, সদর উপজেলার টাইগার পাড়া হয়ে রুপালি ঝর্ণা এবং রেইছা বাজার থেকে গোয়ালিয়াখোলা সড়ক নির্মাণ কাজেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় উন্নয়নের নামে এই লুটপাট বন্ধ হবে না এবং জনগণ পাবে না টেকসই অবকাঠামো। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির অর্থায়নে সিএইচটি-আরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ১০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে চিম্বুক সড়ক থেকে ফারুক পাড়া হয়ে বড় পাহাড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউটিমং।

Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category